টিকা নিয়ে গুজব ছড়ালে বিরোধীদের কষিয়ে থাপ্পড়ের 'হুমকি' যোগীর
টিকা নিয়ে গুজব ছড়ালে বিরোধীদের কষিয়ে থাপ্পড়ের 'হুমকি' যোগীর
উত্তরপ্রদেশে প্রথম দফা নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। তার আগে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিরোধীদের উপর তীব্র আক্রমণ করলেন। বললেন, 'যারা কোভিড -১৯ টিকা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের ভোট দিয়ে কড়া থাপ্পড় মারুন'

বিজনোরে জন চৌপালের সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী বলেন, 'আমি প্রত্যেকের কাছে আবেদন করছি যে এখানকার ১০০ শতাংশ মানুষ যদি সম্পূর্ণরূপে টিকা পান, তবে যারা ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ায় তাদের ভোট দিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার সময় এসেছে"।
বিরোধীদের উপর তার আক্রমণ অব্যাহত রেখে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, বহুজন সমাজ পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা তাদের সময়ে অন্ধকারে বাস করত এবং মানুষের উপর লুটপাট চালাত। বিজেপি সরকার উত্তর প্রদেশের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন 'পাঁচ বছর আগে কি কেউ বিদ্যুৎ পেয়েছিল? এসপি বা বিএসপি সদস্যরা অন্ধকারে থাকতেন। একটি বাক্য আছে 'চাঁদনি রাত চোরো কো আচ্ছি লাগাতি হ্যায়', তারা ওই সময়ে লুটপাট করেছে। আজ, প্রতিটি ঘর আলোকিত'।
তিনি আইন শৃঙ্খলার সমস্যাও উত্থাপন করে মুজাফফরনগর দাঙ্গার কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আপনাদের কি মনে আছে মুজাফফরনগর দাঙ্গার সময় কিছু ছেলে নিখোঁজ হয়েছিল; একজন লখনউতে দাঙ্গা পরিচালনা করছিল, এবং অন্যজন দিল্লি থেকে তা দেখছিল। তারা এখন কোথায়? আজ, তারা জানে বিজেপি তাদের ঠান্ডা করে দিতে পারে।'
এদিকে উত্তরপ্রদেশের বাহ বিধানসভা আসনে পার্টির জনসভায় দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রামজিলাল সুমনকে দেখা যায় জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র ভার্মাকে চড় মারতে। তবে না , হাত উঁচিয়েই তিনি থেমে যান। জিতেন্দ্র ভার্মা তখন অখিলেশ যাদবের সঙ্গে কথাবার্তায় ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা ঘটনায় তিনি হকচকিয়ে যান। তিনি সাময়িকভাবে ভয় পেয়ে যান। তবে বিষয়টা পুরোটাই মজা করে ছিল বলে জানা গিয়েছে। অখিলেশ যাদব পুরো বিষয়টিকে মজার ছলেই নেন এবং তিনি নিজেও হাসতে শুরু করেন।
রবিবার ঘটনাটি ঘটে যখন রামজিলাল সুমন সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন এবং ভার্মাকে মঞ্চে অখিলেশ যাদবের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। হঠাৎ, রামজিলাল সুমন তার বক্তৃতা মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে ভার্মার কাছে গিয়ে তাকে চড় মারার ইঙ্গিত করেন। জানা গিয়েছে, রামজিলাল সুমনের বক্তৃতার সময়, ভার্মা এবং যাদব উভয়কেই নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা যায়। এতেই পার্টির সাধারণ সম্পাদক বিরক্ত হন। তবে পুরো বিষয়টি একটি হালকা ভাবেই মিটে যায় এবং মঞ্চে উপস্থিত সবাইকে হাসতে দেখা যায়। জনসভাটি অখিলেশ যাদবের বক্তৃতার মাধ্যমে শেষ হয়। যিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে , যদি তার দলকে ভোট দেওয়া হয় তাহলে তিনি বাহকে একটি জেলায় পরিণত করবেন।
চলতি বছরে ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। করোনাকালীন আবহে বিধানসভা ভোট হতে চলেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মনিপুর, গোয়া এবং পাঞ্জাব রাজ্যে।উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন সাত দফায় ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরপ্রদেশে ভোট হবে ১০, ১৪, ২০, ২৩, ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ ও ৭ মার্চ।












Click it and Unblock the Notifications