ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট-অ্যান্টিবায়োটিক, কেন্দ্রীয় গুণমানের পরীক্ষায় ডাহা ফেল ৪৭ ওষুধ! বাড়ছে উদ্বেগ
বহু পরিচিত ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টাসিডের মত কিছু ওষুধ সহ ৪৭ টি ওষুধের নমুনা মানসম্মত নয় (NSQ) বলে জানিয়ে দিল সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি। সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির তরফ থেকে এই নিম্নমানের ওষুধ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল ড্রাগস ল্যাবরেটরি (Central Drug Testing Laboratory) ওষুধ ও প্রসাধনীর মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারত সরকারের একটি জাতীয় পরীক্ষাগার।
এটি ভারতীয় ওষুধ ও প্রসাধনী আইন, ১৯৪০ অনুসারে প্রতিষ্ঠিত। এটি ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রাচীনতম মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার। তাদেরই পরীক্ষায় যে ৪৭টি ওষুধ গুণমান বজায় রাখতে বযর্থ হয়েছে বহু নামী-দামি ওষুধ। যা মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health) মতে, নির্দিষ্ট কোনও মানদণ্ডে কোনও ওষুধের নমুনার ব্যর্থতার ভিত্তিতে ওষুধের নমুনাগুলিকে মানসম্মত নয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, এই ব্যর্থতা নির্দিষ্টভাবে সরকারি পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত ব্যাচের ওষুধের পণ্যগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রতি মাসে এই নিয়মিত প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। তবে মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, "বাজারে উপলব্ধ অন্যান্য ওষুধের পণ্য নিয়ে কোনও উদ্বেগের কারণ নেই,"।
রাজ্য ওষুধ পরীক্ষাগারগুলিও ৫৬টি ওষুধ শনাক্ত করেছে। ফেব্রুয়ারিতে, সরকার বলেছিল যে বাংলার একটি নমুনায় নকল ওষুধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যা অন্য একটি কোম্পানির মালিকানাধীন ব্যান্ড নাম ব্যবহার করে অনুমোদিত প্রস্তুতকারক দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। এই বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারিভাবে বলা হয়েছে যে, ওষুধের গুণমান বজায় রয়েছে কি না, তার মান বা স্টযান্ডার্ড খতিয়ে দেখার কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলি রয়েছে। সেই গুণমানের পরীক্ষায় 'নট অফ স্টযান্ডার্ড কোয়ালিটি' বা এনএসকিউ তকমা পেয়েছে জনপ্রিয় ওষুধগুলি। মানসম্মত নয়, ভুল ব্র্যান্ডের এবং নকল ওষুধ নিয়মিতভাবে চিহ্নিত করা হয় এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাজার থেকে তা সরিয়ে ফেলা হয়। এটি রাজ্য নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই স্যালাইনকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। আবার আরজি কর কাণ্ডের সময়ও ভুয়ো ওষুধ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। এই আবহে এক সংবাদ প্রতিবেদনে কোভিড পরবর্তী সময়কালে বাংলায় বাজারে ভুয়ো ওষুধের পরিমাণ ৪৭ শতাংশ বেড়েছে, এমনটা জানানো হয়।
জানুয়ারি মাসে ভুয়ো ওষুধ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গনাইজেশন। তাতে দেখা যায়, সাম্প্রতিককালে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভুয়ো ওষুধ ধরা পড়েছে বাংলায়। তাই ওষুধ কেনার আগে যাচাই করা কিন্তু জরুরী।












Click it and Unblock the Notifications