ত্রিপুরায় তৃণমূলের 'খেলা হবে দিবসে'র পালন, শেষ মুহূর্তে মমতার নির্দেশে পরিকল্পনায় বদল
ত্রিপুরায় তৃণমূলের 'খেলা হবে দিবসে'র পালন, শেষ মুহূর্তে মমতার নির্দেশে পরিকল্পনায় বদল
রাজ্যের আট সাংসদ এদিন ত্রিপুরায় (tripura) গিয়েছেন। এছাড়াও সেখানে আগে থেকেই রয়েছেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং অপর সাংসদ শান্তনু সেন। এই পরিস্থিতিতেই এদিন ত্রিপুরায় তৃণমূলের খেলা হবে দিবসের ( khela hobe diwas) পরিকল্পনা বদলের কথা জানি গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, দলনেত্রীর নির্দেশেই পরিকল্পনায় বদল আনা হয়েছে।

আগে ত্রিপুরা, পরে ২০২৪
ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারিতে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে একাই হারানোর পরে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে তৃণমূলের। যে কথা দিল্লিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সৌগত রায়। প্রথমে আইপ্যাকের টিমকে ত্রিপুরায় পাঠানো, তাদের বাধা দেওয়া হলে মলয় ঘটক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা প্রথমে সেখানে যান তারপর যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এরপর তৃণমূলের তরফে ত্রিপুরায় পাঠানো হয় দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয় দত্ত এবং সুদীপ রাহাদের। তাঁরা গিয়েই সেখানে সাড়া ফেলে দেন। আমবাসার যাওয়ার পথে গাড়িতে হামলার অভিযোগ, তারপরেই সর্বভারতীয় মিডিয়ার নজর টেনে নেন তাঁরা। যদিও তার পরে গ্রেফতার ও আদালতের ঝক্কি সামলে এখন জয়া দত্ত ও সুদীপ রাহা ভর্তি এসএসকেএম হাসপাতালে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ২০২৪-এ তৃণমূলের লক্ষ্য দিল্লি হলেও, তার আগে উত্তর-পূর্ব ভারতের ছোট রাজ্য দিয়েই তারা শুরু করতে চায় অভিযান।

বিজেপির ওপরে চাপ বাড়াতে ৮ সাংসদ ত্রিপুরায়
দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, সুদীপ রাহারা রাজ্যে ফিরে আসার পরে মহামারী আইনে সেখানে গ্রেফতার সংখ্যা বেড়েছে। বেছে বেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই পরিস্থিতিতে এদিন আট সাংসদ আগরতলা পৌঁছেছেন। সেই তালিকায় রাজ্যসভা এবং লোকসভা উভয় কক্ষের সাংসদরা রয়েছে। এঁরা লেন, দোলা সেন, অর্পিতা ঘোষ, আবীর বিশ্বাস, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দার এবং আবু তাহের খান। ওই দলে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। রয়েছে ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা তথা তৃণমূল নেত্রী বসুবন্ধরা গোস্বামী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ভয় পেয়ে ত্রিপুরা সরকার প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাত্য বসু।

আপাতত ত্রিপুরা যাচ্ছেন না দেবাংশুরা
আগামী ১৬ অগাস্ট পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কেরল, ত্রিপুরা, অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্যে খেলা হবে দিবস পালন করতে চলেছে তৃণমূল। ১৬ অগাস্টকে লক্ষ্য করেই ফের দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত এবং সুদীপ রাহাদের ত্রিপুরায় যাওয়ার বকথা ছিল। কিন্তু তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা আপাতত ত্রিপুরায় যাচ্ছেন না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মুহূর্তে এই তিন ছাত্র-যুব নেতানেত্রীর ত্রিপুরায় যাওয়ার ব্যাপারে মত নেই দলনেত্রীর।

কারণটা রাজনৈতিক এবং আইনগত
কলকাতার আসার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোয়াই থানায় বসে থেকে জামিন করিয়ে এই তিন নেতানেত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তাঁরা যদি ফের এই মুহূর্তে যান, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হতে পারে। যার জেরে বাড়তে পারে ঝামেলা। সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের খবর। যদি তৃণমূলের একটি মহল বলছে দলনেত্রী চান না, সুদীপ রাহা এবং জয়া দত্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই ত্রিপুরায় আবার যান। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম-এ ভর্তি দুজনকে দেখতে দুবার সেখানে গিয়েছেন। তাঁরা পুরোপুরি সুস্থও নন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার জয়া দত্তকে এসএসকেএম থেকে ছাড়া হলেও, সুদীপ রাহাকে আরও কয়েকদিন থাকতে হবে। সেই কারণেই ত্রিপুরার পরিকল্পনায় বদল আনা হয়েছে।

খেলা হবে দিবসের পাল্টা ক্রীড়া দিবস বিজেপির
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খেলা হবে দিবসের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেদিনই বিজেপির তরফে দিনটি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল। ১৯৪৬ সকালের ওই দিনে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসে ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিজেপির তরফে অবশ্য জানানো হয়েছিল তারা ১৩ অগাস্ট ক্রীড়া দিবস পালন করবে। সেই মতো এদিন রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল ও কবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা ১৬ অগাস্ট দিনটিতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও দিবস হিসেবে পালন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications