রাহুলই দায়ী বিরোধী ঐক্য গড়ে না ওঠার জন্য, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোড়া তির তৃণমূলের
রাহুলই দায়ী বিরোধী ঐক্য গড়ে না ওঠার জন্য, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোড়া তির তৃণমূলের
তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী ঐক্যের বিরোধিতা করে প্রাকারান্তরে বিজেপিরই সুবিধা করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল পরিকল্পনামাফিক রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যকে হীনবল করে তোলার কাজ করে চলেছে। তবে তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেসের কারণেই বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠছে না।

কংগ্রেস এই দুটি কাজের একটাও করছে না
জোট সমন্বয় স্থাপন করতে গেলে কংগ্রেসের কী করণীয়, তাও জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি, কংগ্রেসের উচিত সমমনষ্ক বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নিজেদের সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা। আর ঔদ্ধত্য না দেখানো। কিন্তু কংগ্রেস এই দুটি কাজের একটাও করছে না। সেই কারণেই বিরোধী ঐক্য দানা বাঁধছে না।

কংগ্রেসের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার
তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে, বিজেপিকে হারানো অগ্রাধিকার দিয়ে কংগ্রেসের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। কংগ্রেস আগে মানসিকতা পরিবর্তন করুক। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কংগ্রেসের ঔদ্ধত্যের কয়েকটি নিদর্শনও তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেসের মীরা কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেছিল তৃণমূল। কংগ্রেস তা না করে সিপিএমের হাত ধরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করে রাহুল গান্ধীর ইচ্ছায়।

তৃণমূল নেতৃত্বের তিক্ততা রাহুলকে নিয়ে
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তিক্ততা রয়েছে। রাহুল গান্ধীকে কংগ্রেস মানতে নারাজ। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে দাদাগিরির অভিযোগ তা মূলত রাহুল গান্ধীকে নিয়ে। তাই কারও জন্য অপেক্ষা না করে যে রাজ্যে সম্ভব সংগঠন বাড়ানোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসের অন্দরের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগী মমতার দল।

কংগ্রেসে বিক্ষুব্ধদের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল
ত্রিপুরায় ২০১৬ সালেও কংগ্রেসকে ভেঙেছিল তৃণমূল। তা পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে শিফট করে। এখন ত্রিপুরায় সংগঠন বাড়াতে গিয়ে সেই কংগ্রেসেই ভাঙন ধরাচ্ছে। গোয়াতেও কংগ্রেসে থাবা বসিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর গোয়ায় আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে ভোট। প্রার্থী নির্বাচন শুরু হলেই কংগ্রেসে বিক্ষুব্ধের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করছে তৃণমূল। তখনই দলের সংগঠন আরও বাড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবার পরামর্শ তৃণমূলকে
তৃণমূলের দাবি, এবার একুশের নির্বাচনেও তারা কংগ্রেসকে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে সামিল করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল কিছু আসনে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে। কিন্তু কংগ্রেস সেই রাস্তা না হেঁটে সিপিএমের সঙ্গে জোট বজায় রেখে তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কংগ্রেস অবশ্য তৃণমূলের এই সব অভিযোগকে নিছকই বাহানা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, রাজনীতি পরিবর্তনশীল। বৃহত্তর স্বার্থ হল বিজেপিকে দিল্লির সিংহাসন থেকে সরানো। সে ক্ষেত্রে ছোটোখাটো স্বার্থ ভুলে বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications