স্যার অদ্ভুত আচরণ করতেন, মৃত্যুর আগে তোলা শিউরে ওঠা ভিডিওতে যৌন নির্যাতনের বিভীষিকা তুলে ধরলেন হিমাচলের ছাত্রী
হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, র্যাগিং ও লাগাতার মানসিক যৌন হেনস্থার শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ১৯ বছরের ওই ছাত্রী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে হাসপাতালে তোলা একটি ভিডিও সামনে আসতেই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে কলেজ জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে শোনা যায় ছাত্রীকে। তাঁর অভিযোগ, তিনজন সিনিয়র ছাত্রীর হাতে মারধর ও র্যাগিংয়ের পাশাপাশি কলেজের এক অধ্যাপক তাঁকে অশালীন আচরণ ও মানসিক চাপে রাখতেন। ভিডিওতে এক নারীর প্রশ্নের উত্তরে ছাত্রী অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনি নিয়মিত বিরক্ত করতেন ও 'অদ্ভুত আচরণ' করতেন।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছাত্রী জানান, অধ্যাপক তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও স্পর্শ করতেন ও নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। বিষয়টি বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্টতই অস্বস্তিতে পড়েন, তবু বাবার সামনেই অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ছাত্রীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনজন সিনিয়র ছাত্রী হর্ষিতা, আকৃতি ও কোমোলিকা র্যাগিং ও মারধরে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারার পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশের র্যাগিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
কাংড়া জেলার পুলিশ সুপার অশোক রতন জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট সকলের বয়ান পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
যদিও অভিযুক্ত অধ্যাপক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই ছাত্রী তাঁর ছাত্রী ছিলেন না। কিছু শিক্ষকও তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বলে খবর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ছাত্রীটি ২০২৪ সালে কলেজে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। ফল প্রকাশের পর জুলাই মাসে তাঁর উপস্থিতি বন্ধ হয়ে যায় ও অগাস্টে কলেজের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে পুনরায় ভর্তি হওয়ার আশায় তিনি কলেজে যোগাযোগ করলে পুনর্মূল্যায়নে পাশ না করলে আবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে। একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মৃত্যু শুধুই একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল এমনই মত উঠছে বিভিন্ন মহলে।












Click it and Unblock the Notifications