অজিত পাওয়ার ফের বিদ্রোহী! এনসিপিতে ভাঙন জল্পনা ওড়ালেন পার্টি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার
অজিত পাওয়ার ফের বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন এনসিপিতে! তাঁর নেতৃত্বে ৩০ জন বিরোধী বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। অজিতের দলবদল সম্ভাবনা ও এনসিপিতে ভাঙন জল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার।
শারদ পাওয়ার বলেন, এনসিপি বিধায়করা বিজেপিতে যোগ দেবেন না। নিছকই জল্পনা শুরু হয়েছে। এসব সংবাদমাধ্যমের রটনা। তিনি ভাইপো অজিত পাওয়ারের বিদ্রোহকে রটনা বলে উড়িয়ে দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন উদ্ধব ঠাকরে শিবিরকেও। তিনি জানিয়েছেন, এসব মিডিয়ার কল্পনা, তাঁর দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার এদিন অজিত পাওয়ারের বিজেপিতে যোগদানের সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এসব নিছকই গুজব। তবে এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের বিজেপি শিবিরে বা মহারাষ্ট্র সরকারের যোগদানের বিষয়ে জল্পনার মধ্যেই প্রায় এক ডজন এনসিপি বিধায়ক তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রে এনসিপির ৫৩ জন জন বিধায়ক রয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়ক পদ খারিজ এড়াতে অজিত পাওয়ারকে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন পেতে হবে। সূত্ররে খবর তাঁর সঙ্গে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন রযেছে। এর মধ্যে আবার শরদ-কন্যার একটি মন্তব্য বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজ্য-রাজনীতিতে।
শরদ পাওয়ারের মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে বলেছেন, ১৫ দিনের মধ্যে দুটি বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ হবে। একটি হবে দিল্লিতে এবং অন্যটি মহারাষ্ট্রে। গত সপ্তাহে শিবসেনার উদ্ধবগোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি-তে অজিত পাওয়ারের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। তিনি নিশ্চয় বিজেপিতে যোগ দেবেন না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের একজন সিনিয়র নেতা। আমি মনে করি না যে তিনি এমন কিছু করবেন। তিনি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন না বলে আমরা বিশ্বাস। কিন্তু মহারাষ্ট্রের রাজীতিতে ফের এনসিপিতে ভাঙন জল্পনা প্রকট হয়েছে।
আবারও বিজেপি বিরোধী শিবিরে থাবা বসাতে সচেষ্ট হয়েছে। বিজেপির ইন্ধনে শিবসেনায় আড়াআড়ি বিভাজন ঘটে গিয়েছে। তারপর এনসিপিতেও ঘটতে চলেছে বলে জল্পনা। অজিত পাওয়ার সম্প্রতি এনসিপি বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন বলে জল্পনা।
২০১৯ সালে এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার একবার বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পতন হয় ফড়নবিশ ও পাওয়ারের যৌথ সরকারের। সেই সময়ও দাবি করা হয়েছিল, অজিত পাওয়ারের সঙ্গে বেশিরভাগ এনসিপি বিধায়কের সমর্থন ছিল।
কিন্তু তখন শরদ পাওয়ার খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। এখন অজিত পাওয়ারের বিদ্রোহ তিনি কীভাবে সামলান সেটাই দেখার। দেখায় অজিত পাওয়ার ভোলবদলে বিজেপির দিকে ঝোঁকেন। নাকি তিনি ফরে কাকার সমর্থনেই থাকেন। মহারাষ্ট্রের বিরোধী শিবির ফের আতঙ্কিত এই ভাঙন সম্ভাবনায়।












Click it and Unblock the Notifications