লখিমপুর খিরি নিয়ে দ্বিতীয় এফআইআর, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
লখিমপুর খিরি নিয়ে দ্বিতীয় এফআইআর
লখিমপুর খিরির হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই এফআইআরে দাবি করা হয়েছে, কৃষি আইন প্রতিবাদকারীদের মধ্যে থাকা কিছু খারাপ মানুষ এসইউভির মধ্যে বসে থাকা বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা করে তবে এফআইআরে কৃষক হত্যা বা গাড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে আশিষের উপস্থিতির বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই।

দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের ৪ অক্টোবর
এই এফআইআরটি দায়ের হয়েছে ৪ অক্টোবর তিকোনিয়া পুলিশ থানায়, যেখানে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার কথা তুলে ধরা হয়েছে আবার অন্য এফআইআরে মন্ত্রী পুত্র আশিষ মিশ্রের কথা উল্লেখ রয়েছে, যে একটি গাড়ির মধ্যে উপস্থিত ছিল, সেই গাড়িটি চারজন কৃষককে পিষে মেরে দিয়েছিল। দ্বিতীয় এফআইআরে শুধুমাত্র 'অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি'দের নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৪ ধারা সহ অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সুমিত জয়সওয়াল দায়ের করেন এফআইআর
দ্বিতীয় অভিযোগটি করেন সুমিত জয়সওয়াল নামের এক বিজেপি কর্মী। যিনি দাবি করেন যে কুস্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যকে যে সব বিজেপি কর্মীরা আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন, তিনি তাঁদের মধ্যে একজন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের আদিবাড়ি বাণবীরপুরে এই কুস্তির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অজয় মিশ্রের ছেলে আশিষ মিশ্র ওরফে মনুকে শনিবারই চারজন কৃষক হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

৩ অক্টোবরের ঘটনা
গত ৩ অক্টোবর ওই জেলার তিকোনিয়া এলাকায় কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়। এই আটজনের মধ্যে ২ জন বিজেপি কর্মী, এসইউভি গাড়ির চালক ও সাংবাদিকও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। জয়সওয়ালের মতে, সাংবাদিক রমন কাশ্যপ, গাড়ির চালক হরি ওম এবং বিজেপি কর্মী শুভম মিশ্র এবং শ্যাম সুন্দরের ওপর হামলা করে প্রতিবাদী কৃষকরা। যদিও সাংবাদিকদের পরিবারের দাবি, যাঁরা গাড়ি চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন তাঁদের মধ্যেই সাংবাদিক ছিলেন।

দ্বিতীয় এফআইআরে কি বলা হয়েছে
দ্বিতীয় এফআইআরে বলা হয়েছে, 'আবেদনকারী সহ বিজেপি কর্মীরা কালে শরণ চৌকে যান এবং তাঁরা মহিন্দ্রা থারে (ইউপি ৩১ এএস ১০০০) ছিলেন। চালক হরি ওম, যিনি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং আমার বন্ধু শুভম মিশ্র, তাঁরা প্রধান অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন।' এফআইআরে এও বলা হয়েছে, 'প্রতিবাদী কৃষকদের মধ্যে কিছু খারাপ মানুষ গাড়িতে বাঁশ, ইঁট ও পাথম দিয়ে হামলা করেন, যে হামলায় আহত হন হরি ওম এবং গাড়িটি রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর প্রতিবাদকারীরা চালক হরি ওমকে গাড়ি থেকে বের করে বাঁশ ও তরোয়াল দিয়ে হামলা করে। আমাদের দিকেও পাথর ছোঁড়া হয় এবং আমরা সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাই আর এরই মাঝে আমাদের বন্ধু শুভম মিশ্রকে প্রতিবাদকারীরা ধরে ফেলে এবং তাঁকেও মারধর শুরু করে।' সুমিত জয়সওয়ালের এও দাবি যে তিনি কোনওমতে ওই জায়গা থেকে বেঁচে ফিরে আসেন নইলে তাঁকেও মেরে ফেলা হত। এফআইআর মতে, সুমিতের দাবি, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হরি ওম ও শুভম মিশ্র সহ আরও দুই অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপি কর্মীকে হত্যা করার খবর জানতে পারেন।

সিট গঠন করার নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এই ঘটনা নিয়ে সিট গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। যাতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হতে পারে এই দুই এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে। এখনও পর্যন্ত, প্রথম এফআইআরের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পুত্র আশিষ মিশ্র গ্রেফতার হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications