নির্বাচনী বন্ড নিয়ে কী ছিল গাইডলাইন? RTI-এর উত্তরে 'ঢাল' এসবিআই-এর
নির্বাচনী বন্ড নিয়ে এসবিআই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানলেও, তার বিভিন্ন শাখায় জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেছে। বন্ড বিক্রি ও তার থেকে অর্থপ্রাপ্তিতে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে আরটিআই-এর উত্তরে ওই পদক্ষেপ নিয়েছে এসবিআই।
প্রসঙ্গত অ্যাক্টিভিস্ট অঞ্জলী ভরদ্বাজ ব্যাঙ্কের দেওয়া এসওপি সম্পর্কে জানতে তথ্যের অধিকার আইনের অধীনে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন। এর উত্তরে এসবিআই-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এম কান্না বাবু জানিয়েছেন, এসওপিগুলি ছিল ইন্টারন্যাল গাইডলাইন। আরটিআই আইনের ৮(১)(ডি) ধারা অনুযায়ী এব্যাপারে তারা সেই তথ্য জানাতে বাধ্য নন।

আরটিআই-এর এই ধারায় বাণিজ্যিক আস্থা, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা বা বুদ্ধি বৃত্তিক সম্পত্তি-সহ তথ্যে সঙ্গে সম্পর্কিত। যা প্রকাশ করা হলে তৃতীয়পক্ষের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ক্ষতি করবে। এব্যাপারে বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয়টি নিয়ে যদি কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়, তবেই তা সামনে আনা যেতে পারে।
অন্যদিকে এব্যাপারে আবেদনকারী বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কীভাবে এই তথ্য প্রকাশকে তৃতীয় পক্ষের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ক্ষতি করবে, তার ব্যাখ্যা না দিয়ে অব্যাহতির ধারাটিকে ঢাল করেছে। ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী বন্ড নিয়ে আদেশ পালন করতে গড়িমসি করার সময় সুপ্রিম কোর্ট এসবিআইকে তিরষ্কার করে বলে এব্যাপারে এসবিআই-এর কখনই সিলেকটিভ হওয়া উচিত নয়। শীর্ষ আদালত এসবিআইকে দেওয়া নির্দেশে বলে, তাদের হলফনামা দাখিল করে বলতে হবে, নির্বাচনী বন্ড নিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে থাকা সব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এসবিআই-এর চেয়ারম্যানকে এব্যাপারে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো এসবিআই আলফানিউমেরিক নম্বর ও বন্ডের ক্রমিক নম্বর-সহ সব বিবরণ প্রকাশ করে। এরপর সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনও তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে।
প্রসঙ্গত ১৫ ফেব্রুয়ারির রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এর রায়ে নির্বাচনী বন্ড স্কিম অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেয়। পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেছিল কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দাতাদের সম্পর্কে গোপনীয়তা বজায় রাখা এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হতে পারে না।












Click it and Unblock the Notifications