রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো-রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল, একনজরে নতুন বছরের আর্থিক নীতি
নতুন আর্থিক বছরে মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, মুদ্রা নীতি অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে নতুন বছরে।
নতুন আর্থিক বছরে মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, মুদ্রা নীতি অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে নতুন বছরে। রেপো রেট ও রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকছে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরেও। জানানো হয়েছে, নতুন আর্থিক বছরের প্রথম মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত থাকছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে জানিয়েছে, "প্রায় দু'বছর পর আমরা মহামারী পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসছি। আবার বিশ্ব অর্থনীতি ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউরোপে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে। তার ফলে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই মুদ্রা নীতি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস।
আরবিআই রেপো রেট ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে, আর রিভার্স রেপো রেট ৩.৩৫ শতাংশে পরিবর্তন করা হয়েছে। মনিটারি পলিসি কমিটি রেপো রেট ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার জন্য সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছে। এমপিসি সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছে রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে।
এমএসএফ হার এবং ব্যাঙ্ক রেট ৪.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে আরবিআই গভর্নর শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, ইউরোপে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নতুন এবং ভয়ঙ্কর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। ইউরোপে সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে লাইনচ্যুত করতে পারে, এমন একটা সম্ভাবনা রয়েই গিয়েছে। তাই আমরা আগে থেকে সাবধানী পদক্ষেপ নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়, সেই হারকে বলা হয় রেপো রেট। আর যে হারে ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ধার নেয়, তাকে বলা হয় রিভার্স রেপো রেট। এই দুই-ই এবার অপরিবর্তিত থাকছে। এই নিয়ে টানা ১১ বার অপরিবর্তিত থাকল রেপো রেট ও রিভার্স রেপো রেট।
সম্প্রতি গোটা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশের উপরও আঘাত হেনেছে করোনা মহামারী। তার জেরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উপর বাড়তি বোঝা চেপেছে। একইসঙ্গে লকডাউনের জেরে অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল বিগত দু-বছর। সই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমরা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। যেই আমরা আশার আলো দেখতে শুরু করেছি অর্থনীতিতে, তখনই ইউরোপে তৈরি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। রুশ হানায় বিধ্বস্ত ইউক্রেন। তার প্রভবা পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে, ভারতও তার বাইরে নয় বলে অভিমত আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের।












Click it and Unblock the Notifications