রসগোল্লা, পান থেকে পিৎজা, লকডাউনের মাঝে হেল্পলাইনে ফোন করে বেয়াড়া আবদার, নাভিশ্বাস পুলিশের

দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। যে কারণে লকডাউনের মেয়াদও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধা–অসুবিধার কথা শোনার জন্য সরকারি হেল্পলাইন নম্বর চালু রয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই সেই নম্বরে মানুষের কিছু বেয়াড়া আবদারের কথাও শোনা যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে সরকারি নম্বরে ফোন করে অনেকেই আতঙ্কিত স্বরে যেমন ওষুধ সহ প্রয়োজনীয় পণ্যের কথা জানিয়েছেন তেমনি বেশ কিছু ফোন এসেছে যেখানে রসগোল্লা, সিঙারা, পান–গুটখার দাবি করা হচ্ছে।

ওষুধ–রেশন বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ

ওষুধ–রেশন বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ

মুখমন্ত্রীর হেল্পলাইন নম্বর ১০৭৬ তে ফোন করেন রাম রতন পাল, যিনি উচ্চরক্তচাপের রোগী, তিনি ফোন করে জানান যে তাঁর ওষুধের মজুত শেষ হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আধিকারিকরা তা কন্ট্রোল রুমে জানান এবং লখনউতে ডেলিভারি হয়ে যায় ওষুধ। একইভাবে সহায্য পান গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার শঙ্কর সিং। তিনি রেশন ফুরিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য চান হেল্পলাইন নম্বরে। রেশন তাঁর বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেওয়া হয়। রাম রতন ও শঙ্করের মতো এক লক্ষ সুবিধাভোগী মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে সাহায্য পেয়েছে।

রাজ্যবাসীর বেয়ারা আবদারও মেটাচ্ছেন

রাজ্যবাসীর বেয়ারা আবদারও মেটাচ্ছেন

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে কিছু হতবাক করা ফোন এসেছে, যেখানে এক বয়স্ক নাগরিক পুলিশকে জরুরি অনুরোধ করে রসগোল্লা চেয়েছেন। পুলিশ এটাকে ভুয়ো ফোনই মনে করেছিল প্রথমে। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা যখন লখনউয়ের হজরতগঞ্জে রসগোল্লা পৌঁছে দিয়ে আসেন, দেখেন এক ৮০ বছরের বৃদ্ধর তা সত্যিই দরকার ছিল। তিনি মধুমেহ রোগী এবং তাঁর সুগার লেভেল অত্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, সব দাবি জরুরি নয়। অনেকেই ১১২ নম্বরে ফোন করে পান, গুটখা ও গরম সিঙারা ও চাটনির আবদার করছেন। যদিও সিঙারা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু যে ব্যক্তি ফোন করেছিলেন তাঁকে এই দাবি করার মূল্য হিসাবে নর্দমা পরিস্কার করতে হয়।

শিশুদের চিপস, পিৎজ্জা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ কাকু

শিশুদের চিপস, পিৎজ্জা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ কাকু

রামপুরে পিৎজ্জা ডেলিভারি করার ফোন আসাতেও অবাক পুলিশ। এ ধরনের ফোন যারা করছে জেলা শাসকের পক্ষ থেকে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কিছুজন তো মদ চেয়েও ফোন করছে। জানা গিয়েছে, বাড়িতে ঘরবন্দী শিশুদের চিপস, কেক, আইসক্রীম ও পিৎজ্জার আবদারও মিটিয়েছেন এই অদৃশ্য ‘‌পুলিশ-কাকুরাই'‌। আইনশৃঙ্খলা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরা যাঁরা পিআরভির জন্য নিয়োজিত এই লকডাউনের সময় তাঁদের অন্য ভূমিকাতে দেখা যাচ্ছে। সরকারিভাবে জানা গিয়েছে যে হাজারেরও বেশি এই পুলিশ কর্মীরা ১১২ নম্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজ্যকে জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন। খাবার থেকে ওষুধ বা প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য দোকানদার বেশি টাকা নিচ্ছেন, রাজ্যবাসীর সব দাবি পূরণ করছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ৩৫ হাজার পিআরভি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যবাসীর সেবায় পিআরভি জওয়ান

রাজ্যবাসীর সেবায় পিআরভি জওয়ান

পুলিশের এডিজি অসীম অরুণ বলেন, ‘‌লকডাউন যবে থেকে শুরু হয়েছে, পিআরভি জওয়ান রাতদিন মানুষের চাহিদা পূরণ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।'‌ হেল্পলাইন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১,১০০ জন পুলিশ কর্মী। এডিজি বলেন, ‘‌প্রসবের জন্য গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক ও অসুস্থকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন আসে। অ্যাম্বুলেন্সের বন্দোবস্ত করার জন্য পুলিশরা পিআরভির সঙ্গে কাজ করে।'‌ ১১২ নম্বরটির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দমকল, অ্যাম্বুলেন্স ও জাতীয় বিপর্যয় বাহিনীর সঙ্গে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+