Rahul Gandhi: রাহুলের সায় নেই প্রধানমন্ত্রিত্বে! মোদী-বিরোধী মুখ হিসেবে কার দিকে ‘সমর্থন’
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে খাঁড়া নেমে এসেছে লোকসভায়। মানহানির মামলায় দোষীসাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে ২ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর তারপর তাঁর লোকসভার সাংসদ পদও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আর এটাই শাপে বর হতে পারে রাহুল গান্ধীর।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিরোধী ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন এবার, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর বিরুদ্ধে খাঁড়া নেমে আসায় তিনি এখন ফ্রি-হ্যান্ড। তিনি মোদী-বিরোধী ঐক্য গড়ায় জোর দিতে পারেন। তাঁর আর একটি সুবিধা হল, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য আগ্রহী নন।

২০২৪ সালে কংগ্রেস অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো না করলে রাহুল গান্ধী প্রদানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে থাকবেন না। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করেই দিয়েছেন। রাহুল গান্ধীর পরিকল্পনা হল, যতক্ষণ না কংগ্রেস লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে অন্তত অর্ধেক আসন না পাচ্ছে, ততদিন তিনি বা তাঁর দল প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে শামিল হবেন না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পক্ষে লোকসভায় ১৫০-র বেশি আসনে জেতা খুবই কঠিন। রাহুল চাইছেন না তাঁর দলের সংখ্যা না থাকলে প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে বসতে। তা যদি না সম্ভব হয়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টি হলেও কংগ্রেস এই লড়াইয়ে যাবে না। বরং আঞ্চলিক দলের কোনো মুখকেই সমর্থন দেবে।

বিরোধী দলগুলির সুপ্রিমোরা তা ভালো করেই জানেন। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যে দল বৃহত্তম হবে, সেই দলকেই সমর্থন দেবে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যে কোনও আঞ্চলিক নেতার জন্য খোলা। সে ক্ষেত্রে ৩০-এর বেশি সংসদীয় আসন পেতে হবে। অ-কংগ্রেস দলগুলির সঙ্গে যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে, তাঁরাই এগিয়ে থাকবে লড়াইয়ে।
অতীতেও এমন রেকর্ড ছিল। ১৯৭৭-এ যখন জয়প্রকাশ নারায়ণ উচ্চপদ গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলেন না। তখন জগজীবন রাম এবং চরণ সিং উভয়েরই পছন্দের প্রার্থী ছিলেন ৭৭ বছর বয়সী মোরারজি দেশাই। আবার ১৯৮৯ সালে ভিপি সিং শীর্ষ পদে বসেছিলেন, তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন চৌধুরী দেবীলাল।

এছাড়া ১৯৯৬ সালে ইউনাইটেড ফ্রন্টে প্রচুর নাম ছিল। লালুপ্রসাদ যাদব থেকে মুলায়ম সিং যাদবরা ছিলেন। তারপরও এইচডি দেবগৌড়াকে মনোনীত করা হয়েছিল। আর ২০০৪ সালে সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তখন অর্জুন সিং বা প্রণব মুখোপাধ্যায় থাকা সত্ত্বেও মনমোহন সিংকে বেছে নিয়েছেন সোনিয়া।
এখানে উল্লেখ্য, ১৯৭৭, ১৯৮৯, ১৯৯৬ ও ২০০৪ সালে যথাক্রমে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, পিভি নরসিমা রাও এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য বা জোট গড়ে উঠেছিল এবং তা সফল হয়েছিল। এখন ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ফের জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীরা।












Click it and Unblock the Notifications