দিল্লি নির্বাচনে নারী ভোটারদের মন জিততে দলগুলি হাজির আর্থিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে, আদৌ কি কাজে লাগবে?
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বেশি নজর থাকছে মহিলা ভোটারদের দিকে। কেননা মোটামুটি সব দলই মনে করছে মহিলা ভোটারদের ভোটেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে দলগুলির। তাই প্রত্যেকের ভোটের মূল ফ্যাক্টরই হল নারী শক্তি এবং নারীদের ক্ষমতান্নয়ন।
রাজনৈতিক দলগুলির নারী ভোটারদের আকর্ষণ করতে, বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। আম আদমি পার্টি, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইতিমধ্যেই।

বিভিন্ন দলের প্রতিশ্রুতি
- বিজেপি যেমন বলেছে, প্রতি মাসে আড়াই হাজার নগদ সহায়তা, ২১ হাজার মাতৃত্ব ভাতা এবং এলপিজি সিলিন্ডারে ৫০০ টাকা ভর্তুকি দেবে তারা সরকার গড়লে
- আবার আপ দাবি করেছে তারা সরকার গড়লে প্রতি মাসে ২,১০০ টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করবে
- কংগ্রেস সরকার গড়লে 'পেয়ারি দিদি যোজনা'-এর অধীনে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করবে
নারী-কেন্দ্রিক উদ্যোগ এবং সমালোচনা
- এই ধরনের কল্যাণমূলক স্কিমের মাধ্যমে নারীদের ভোটার হিসেবে প্রভাবিত করার চেষ্টা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে, বিশেষজ্ঞ এবং সমাজকর্মীরা এই উদ্যোগগুলির কার্যকারিতা এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কেননা আজকের নারীরা অধিকাংশই চাকরিরতা হন আর তারা বাস্তবমুখীও হন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি মেনে নিয়ে নারী ভোটাররা কতটা ভোট দেবেন, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
- অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস-এর জগদীপ ছোকার মন্তব্য করেন, "বিনামূল্যে সহায়তা স্বল্পমেয়াদী ত্রাণ দেয়, কিন্তু আত্মনির্ভরতা বাড়ায় না"। তার মতে, প্রকৃত ক্ষমতায়ন আনতে দক্ষ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমাধান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলির এই চেষ্টা কতটা প্রাসঙ্গিক, সেই বিষয়টিও ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।
- এদিকে, সিপিআই(এম)-এর বৃন্দা কারাটি এই স্কিমগুলোকে নারীর অধিকারের পরিবর্তে সুবিধাভোগী হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, "স্কিমগুলো নারীদের ক্ষমতায়নের দাবি প্রতিফলিত করে, তবে প্রায়শই তাদের স্বাধীন নাগরিকের চেয়ে সুবিধাভোগী বানিয়ে রাখে"।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলো তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য প্রদান করতে পারে, কিন্তু সঠিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জরুরি। কাজের সুযোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, এবং আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অতএব, ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই প্রতিশ্রুতিগুলির প্রভাব কেবল ভোটের ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে, বলেই মনে করছে একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications