বিহারে ১ কোটির বেশি পড়ুয়া অনলাইনে পড়াশোনা করতে অপারগ তথ্য জমা দেয়নি বাংলা, বলছে কেন্দ্রের রিপোট
বিহারে ১ কোটির বেশি পড়ুয়া অনলাইনে পড়াশোনা করতে অপারগ তথ্য জমা দেয়নি বাংলা বলছে কেন্দ্রের রিপোট
করোনা ভাইরাস মহামারির সময় যেখানে স্কুল সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রয়েছে, সেই সময় শিশুদের শিক্ষার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সূচনা করা হয়। বিভিন্ন স্কুলই এখন বর্তমানে অনলাইনে পড়ুয়াদের পড়াচ্ছে। গোটা ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী শিশুদের ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা না থাকার বিষয়টি অবাক করেছে।

এগিয়ে কেরল–রাজস্থান
শিক্ষা মন্ত্রকের থেকে পাওয়া প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী বিহারের এক কোটিরও বেশি শিশু ও ঝাড়খণ্ড এবং কর্নাটকের ৩০ লক্ষের বেশি শিশুর কাছে ডিজিটালে পড়াশোনা শেখার কোনও ডিভাইস নেই। অন্যদিকে, কেরল ও রাজস্থান এদিক থেকে যথেষ্ট এগিয়ে, এখানে সব শিশুর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস রয়েছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই তথ্য দেওয়া হয় শিক্ষা, মহিলা, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে। যদিও এই তথ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি সহ বেশিরভাগ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির তথ্য নেই। তারা মন্ত্রককে এ জাতীয় কোনও তথ্য পাঠায়নি। মহামারির সময় যখন স্কুল ও কলেজগুলিকে শিক্ষা দেওয়ার অনলাইন পদ্ধতি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল সেই সময় থেকেই ডিজিটাল শিক্ষার জন্য ডিভাইস উপলব্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

শিশুদের শিক্ষায় ফাঁক তৈরি হচ্ছে
সংসদীয় প্যানেলে এই রিপোর্ট বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ দেশজুড়ে বহু শিশুর কাছেই এখনও অনলাইনে পড়াশোনা শেখার জন্য ডিভাইসের অভাব রয়েছে। অথচ এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে স্কুলগুলি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, বিহার, তেলঙ্গানা ও মহারাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে জুলাইতে পুনরায় স্কুল খোলার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও কেন্দ্র ও অধিকাংশ রাজ্য সরকারই এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

প্রভাব পড়েছে শিশুদের শিক্ষায়
সংসদীয় কমিটিতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার খবর নিশ্চিত করে এই কমিটির প্রধান বিনয় সহস্রবুদ্ধে বলেন, 'ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ডিভাইসের অভাব রয়েছে যে সব শিশুদের সেই পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। তবে এই সুবিধার অভাবের জন্য যে প্রভাব পড়েছে এবং শিক্ষাতে যে ফাঁক তৈরি হয়েছে আমরা তা জানতে চেয়েছি। আমরা মন্ত্রককে এ বিষয়ে মূল্যায়ণ করতে বলেছি।' মন্ত্রক জানিয়েছে যে তারা এ সংক্রান্ত রিপোর্ট চলতি মাসের শেষে জমা দেওয়ার প্রত্যাশা করছে।

বিহারে সবচেয়ে বেশি শিশুর কাছে নেই ডিভাইস
রিপোর্ট ও তথ্য 'স্কুল বন্ধের কারণে শেখার ফাঁক কাটানোর' সরকারের পরিকল্পনার একটি অংশ। যদিও এখনও অনেক রাজ্যই এ সংক্রান্ত তথ্য জমা দেয়নি। তবে মন্ত্রকের কাছে এখনও পর্যন্ত আসা তথ্য অনুযায়ী বিহারে সর্বাধিক শিশুর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস নেই, যার সংখ্যা ১.৪ কোটি। অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ড (৩২.৫ লক্ষ) এবং কর্নাটকে (৩১.৩ লক্ষ) সবচেয়ে বেশি শিশুর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস নেই। অন্যদিকে অসমে, ৩১ লক্ষ শিশুর কাছে ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা নেই।

অনেক রাজ্য সম্পূর্ণ তথ্য দেয়নি
তবে মন্ত্রকের কাছে থাকা প্রাপ্ত তথ্য থেকে এটা বলা কঠিন যে কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষায় ফাঁক রয়েছে। কারণ শুধু অসম্পূর্ণ তথ্যই নয়, কিছু রাজ্য নিখুঁত সংখ্যা দিলেও বেশিরভাগ রাজ্যই তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মধ্যপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীর সরকারকে জানিয়েছে যে তাদের রাজ্যের ৭০ শতাংশ শিশুর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস নেই। মহারাষ্ট্রেও ৬০ শতাংশ ও গুজরাতে ৪০ শতাংশ শিশুর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস নেই












Click it and Unblock the Notifications