রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে সাপে বর! ইউরোপে জ্বালানি বিক্রেতে মুনাফা বাড়ছে ভারতের তৈল শোধনাগারগুলির
রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে ইউরোপে রাশিয়ার তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। যদিও তাতে লাভবান হয়েছে ভারত। একদিকে যেমন ভারত রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে রেল আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে পরিশোধিত তেল ইউরোপে রপ্তানি করে মুনাফাও ঘরে তুলছে।

বিভিন্ন শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী ভারত থেকে ইউরোপে যাচ্ছে পরিশোধিত ডিজেল এবং বিমানের জ্বালানি। এই প্রক্রিয়ায় ভারত ইউরোপে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করে অন্যদেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে, পাশাপাশি জ্বালানি রপ্তানিতে বড় শেয়ার দখল করতেও সক্ষম হয়েছে।
২০২২-এ রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের আগে ভারত থেকে প্রতিদিন ১৫৪,০০০ ব্যারেল ডিজেল এবং বিমানের জ্বালানি ইউরোপে যেত। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরবর্তী সময়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তথ্য অনুযায়ী ভারত থেকে ইউরোপে জ্বালানি রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২০০,০০০ ব্যারেল। ডিজেল রপ্তানি বেড়েছে ১২-১৬ শতাংশের মতো।
ভারতের গ্যাসওয়েল রপ্তানি আগেকার ২১-২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছে। ইউরোপে ভারতে পরিশোধিত জ্বালানির ক্রেতা হল ফ্রান্স, তুরস্ক, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস। ভারত থেকে বিমানের জ্বালানি রপ্তানি আগেকার ৪০,০০০-৪২,০০০ ব্যারেল থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে ৭০,০০০-৭৫, ০০০ ব্যারেল।

গত মার্চ মাসের হিসেবে ভারত টানা সাতমাস ধরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে গিয়েছে। এই আমদানির পরিমাণ ইরাক থেকে আমদানিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমনই তথ্য প্রকগাশ করেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।
ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি ২০২২-২৩ সালে ৯৭০,০০০ থেকে ৯৮১,০০০ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। যা ভারতের সামগ্রিক আমদানি একপঞ্চমাংশের বেশি। ২০২১-২২-এ ভারত ইরাক থেকে ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। বর্তমানে তা ৯৩৬,০০০ থেকে ৯৬১,০০০-তে নেমে এসেছে।
তবে রাশিয়ার বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী সংস্থা রোসনেফ্ট এবং ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মধ্যে জ্বালানির মান বৃদ্ধি করতে দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications