ভারতের রেলপথে হাজারো ত্রুটি চিহ্নিতকরণই সার! ২০২২ সালের সিএজি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতের রেলপথে নানা ত্রুটি সম্প্রতি সামনে এসেছে। এই যে একের পর এক ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি-র ২০২২ সালের রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে রেলপথের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ ও সুপারিশের কথা।

২০২২ সালের রিপোর্টে ভারতীয় রেলপথের লাইনচ্যুতকরণের বিষয়ে একাধিক ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সুপারিশ করা হয়েছিল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল এই অবস্থায় কী কী করণীয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সিএজি-র ওই ত্রুটিগুলি নজরে আসে।

করমণ্ডল এক্সপ্রেস

রেলমন্ত্রক দ্বারা জানানো হয়েছিল, ওই অডিটের ফোকাস ছিল লাইনচ্যুত এবং সংঘর্ষ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া। নিরীক্ষকরা দেখেন, বিভিন্ন কারণে ট্র্যাক রেকর্ডিং গাড়ি এবং ট্র্যাক মেশিনগুলির পরিদর্শনে ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য সময়োপযোগী অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয় রিপোর্টে।

শুধু দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করলে হবে না, যাতে সেই ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়, তার যতাযথ বন্দোবস্ত করা জরুরি। কাজ করার সিস্টেমে বা ট্র্যাক, রোলিং স্টক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি বিদ্যমান কি না, তা জেনে-বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করেই সুপারিশ করা হয় রেলমন্ত্রককে।

১৬টি জোনাল রেলওয়েতে লাইনচ্যুত হওয়া ১১২৯টি দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে ২৪টি কারণ প্রকাশ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩২.৯৬ কোটি টাকা বলে রিপোর্টে প্রকাশ। যদিও মোট ৪২২টি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় যান্ত্রিক ত্রুটি দায়ী ছিল। এছাড়া লাইনচ্যুত হওয়ার জন্য প্রধান কারণ ছিল ট্র্যাকের রক্ষণাবেক্ষণ।

করমণ্ডল এক্সপ্রেস

এই রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭১টি ক্ষেত্রে দায়ী ট্র্যাকের রক্ষণাবেক্ষণ। ট্র্যাকের প্যারামিটারগুলির বিচ্যুতি দায়ী ১৫৬টি ক্ষেত্রে। মোট ১৮২টি ক্ষেত্রে লাইনচ্যুত হওয়ার জন্য দায়ী যান্ত্রিক বিভাগের ত্রুটি। ১৫৪টি দুর্ঘটনা লোকো পাইলটদের জন্য হয়েছে। খারাপ ড্রাইভিং বা অতিরিক্ত গতি ছিল তার মূল কারণ।

অপারেটিং বিভাগের জন্য দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৭৫ এবং পয়েন্টের ভুল সেটিং বা শান্টিং অপারেশনে অন্যান্য ভুল দায়ী ৮৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালে ১১২৭টি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ২৮৯টি ট্র্যাক পুনর্নবীকরণের কারণে বলে মনে করা হচ্ছে।

করমণ্ডল এক্সপ্রেস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৬৩ শতাংশ ক্ষেত্রে তদন্ত রিপোর্টগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়নি এবং ৪৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দ্বারা রিপোর্ট গ্রহণে বিলম্ব করা হয়েছে। ট্র্যাক পুনর্নবীকরণ জন্য তহবিলের বরাদ্দও ৯৬০৭.৬৫ (২০১৮-১৯) কোটি টাকা থেকে ২০১৯-২০ সালে ৭৪১৭ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়। তারপর তহবিল পুরোপুরি ব্যবহারও করা হয়নি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+