নীতীশ কুমার কি বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন, অসম্ভব না হলেও সহজ নয় জোট গড়া
নীতীশ কুমার বিজেপি-বিরোধী জোট গড়তে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে ফের জল্পনার পারদ চড়েছে বিরোধী ঐক্য নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, নীতীশ কুমার কি বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন?
অসম্ভব না হলেও জোট গড়া সহজ নয় বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। বিরোধী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ হতে প্রধান বাধা নেতৃত্ব বা মোদী-বিরোধী মুখ। যে দলের ৩০-এর বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে, সেই দলই চাইছে তাঁদের নেতা বা নেত্রী বলে প্রধানমন্ত্রী মুখ বা মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ। তাতেই নড়ে যাচ্ছে বিরোধী ভিত।

এই অবস্থায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বিরোধী ঐক্য গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে নামলেন। ১২ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কুমারের বৈঠক করে তিনি গতি বাড়ালেন ঐক্য গড়ার কাজে।
এই বিরাট লক্ষ্যসাধনে বেশ কিছু প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। প্রথমত কংগ্রেস কি জেডিইউয়ের একজন নেতাকে জোটের স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করবে? দ্বিতীয়ত, নীতীশ কুমার কি ইউপিএ-র আহ্বায়ক হিসেবে কাঙ্ক্ষিত পদ পাবেন? তৃতীয়ত, এই ধরনের উদ্যোগ কি নীতীশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার লড়াউ থেকে ছিটকে দেবে?

সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিরোধী জোট গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারকে ইউপি-র আহ্বায়ক করতে উদাসীন ছিল। ২০১৪ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শারদ পাওয়ার উভয়েই বিজেপি-বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ দেখিয়ে এসেছিলেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ২০১৪ সালের পর থেকেই নিষ্ক্রিয় হতে শুরু করে। বিভিন্ন রাজ্যে এই নন-এনডিএ জোটের দলগুলির মধ্যে একটা সমন্বয় ছিল। তাও ভেঙে পড়তে শুরু করে মোদী সরকার প্রতিষ্ঠার পর। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, বাংলা-সহ বিভিন্ন বিধানসভায় একত্রিত ছিল বিজেপি-বিরোধী দলগুলি৷
কিন্তু বর্তমানে বিরোধীদের ঐক্য এখন মরীচিকা৷ অতীতে পার্টি লাইন বা আদর্শগত বাধা পেরিয়ে বিরোধীদের একত্রিত হওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১৯৭৭, ১৯৮৯, ১৯৯৬ ও ২০০৪ সালে কার্যকর হয়েছিল জোট। ভোটের কয়েক মাস আগে এসে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য জোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে।

নীতীশ কুমার, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শরদ পাওয়ার ও এম কে স্ট্যালিন ২০২৪ সালের জন্য বিরোধীদের একত্রিত করার কথা ভেবেছেন। তাঁরা যদি জোট বাঁধতে পারে তবে ২০১৪ ও ২০১৯-এর পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই তাঁরা মনে করছেন।
আগেও শাসকের বিরুদ্ধে এই ধরনের জোটের প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে। শাসকের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীরা জোটের রাজনীতিতে শামিল হয়েছেন। ১৯৭৭, ১৯৮৯, ১৯৯৬ ও ২০০৪ সালে যথাক্রমে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, পিভি নরসিমা রাও এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর বিরুদ্ধে জোট গড়ে সফল হয়েছিলেন বিরোধীরা।
এখন ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ফের জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীরা। এখন কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে দু-ভাগ আঞ্লিক দলগুলি। নীতীশ কুমারের দৌত্য সেই বাধা সরিয়ে সবাইকে এক করতে পারে কি না, তা বলবে ভবিষ্যৎ, তবে উদ্যোগে খামতি নেই।












Click it and Unblock the Notifications