নিরীহ গ্রামবাসীদের রক্ত ক্ষয় বিফলে যাবে না, চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি নাগা জঙ্গিদের
নিরীহ গ্রামবাসীদের রক্ত ক্ষয় বিফলে যাবে না, চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি নাগা জঙ্গিদের
ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নাগাল্যান্ড। সেনাবাহিনীর গুলিতে ১৬ জন জঙ্গির মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় সব মহল। নাগা জঙ্গিরা দিয়ে ফেলেেছন চরম হুঁশিয়ারি। তাঁরা রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যেভাবেই হোক এর প্রতিশোধ তাঁরা নেবেনই। নিরিহ গ্রামবাসীদের এভাবে রক্তক্ষয় বিফলে যাবে না। এক প্রকার চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে ফেলেছেন নাগা জঙ্গিরা।

শনিবার রাতে ইন্দো-মায়ানমার সীমান্তে অসম রাইফেলসের গুলিতে প্রাণ গিয়েছে প্রায় ১৬ জন গ্রামবাসীর। জঙ্গিসন্দেহে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল সেনা। কিন্তু তাতে সাধারণ গ্রামবাসীরাই ছিলেন। সেই গাড়িতেই সেনা বাহিনীর গুলিতে ৫ থেকে ৬ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা সেনা ছাউনিতে হামা চালাে পাল্টা গুলি চালায় অসম রাইফেলসের জওয়ানরা। তারপরেই উত্তাল হয়ে ওঠে নাগাল্যান্ড। গোটা রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
নাগাল্যান্ডের ঘটনার আঁচ পৌঁছে যায় রাজধানী দিল্লিতেও। শীতকালীন অধিবেশনে এই নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলের সাংসদরা এই নিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন। আসাদউদ্দিন ওয়েইসি দাবি করেছেন গোয়েন্দাদের ভুল খবরের অজুহাত দেখানো হচ্ছে। আসলে চিনের সঙ্গে গোয়েন্দাদের যোগাযোগ ছিল। অন্যদিকে আবার তিনি প্রশ্ন তুলেছেন আফস্পার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে। উত্তর পূর্বের একাধিক রাজ্যে আফস্পা জারি রয়েছে। এই আইনে যেকাউকে গুলি করে হত্যার অধিকার রয়েছে সেনা বাহিনীর। জঙ্গি সন্দেহে তাঁরা গুলি চালাতে পারেন। এই আইন বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছেন সাংসদরা।
নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন তিনি আফস্পা বাতিলের দাবি জানাবেন কেন্দ্রের কাছে। অন্যদিকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী করনাড সাংমাও আফস্পা বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে। ১ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে সিট। জঙ্গিদের গাড়ি সন্দেহে গুলি চালানো হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনীর উপরেও হামলা হয়। তখন আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিলেন জঙ্গিরা। এমনই দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে নাগাল্যান্ডে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাগাল্যান্ড সফর বাতিল করেন তাঁরা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল তাঁদের জোরহাটেইথামিয়ে দেওয়া হত। সেকারণেই তাঁরা শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করলেন। এদিকে অমিত শাহের বয়ানের পর ঘটনার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন অমিত শাহের একেবারেই ব্যর্থ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। তাঁর উচিত পদত্যাগ করা। আফস্পা প্রত্যাহার নিয়ে সব উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা উচিত বলেও দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব।












Click it and Unblock the Notifications