২০২৪ সালে নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের বার্তা মহাবিকাশ জোটের, চাপে বিজেপি
২০২৪ সালে নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের বার্তা মহাবিকাশ জোটের, চাপে বিজেপি
শিবসেনার অন্তর্দ্বন্দ্ব ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। একদিকে, শিবসেনার শিন্ডে শিবির বিজেপির সঙ্গে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে, মহাবিকাশ আঘাদি জোট ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করতে সম্মত হয়েছে। মহাবিকাশ আঘাদি জোট আগামী নির্বাচনগুলোর বিজেপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিজেপির লড়াইকে আরও কঠিন করতে কংগ্রেস ও এনসিপির শিবসেনার সঙ্গে জোট।

বিজেপির নতুন কৌশল
বিজেপির অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে মহাবিকাশ আঘাদি জোটের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যেতে পারে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা লোকসভা নির্বাচনের জন্য ৪৮টি আসনের মধ্যে ৪২টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনে ২৮৮টি ২০০ আসনের জয় নিশ্চিত করার নির্দেশ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির প্রবীণ এক নেতা বলেন, গেরুয়া শিবির মহাবিকাশ আঘাদি জোট ভাঙার জন্য চেষ্টা করেছিল। তার জন্য জোটের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে চেয়েছিল। মহাবিকাশ আঘাদি জোটের পরিবর্তে বিজেপি শিবসেনা দলটি ভাঙতে সক্ষম হয়েছে।

মহাবিকাশ জোটের পতনের পরিকল্পনা বিজেপির
মহাবিকাশ আঘাদি জোটের সরকারের সময় বিজেপির অভ্যন্তরে দলের ভূমিকা নিয়ে দুধরনের মতামত ছিল। মহারাষ্ট্র বিজেপির একটি অংশ চেয়েছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত অক্রমণাত্মক বিরোধীদের ভূমিকা পালন করবে। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে দেবেন্দ্র ফড়নবীস এমভিএ সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ করবে। তবে বিজেপির আর একটি প্রভাবশালী অংশের মত ছিল, যদি কোনওভাবে এমভিএ সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের সাধারনের মনে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এরফলে এমভিএ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা পরের নির্বাচানে হারানো অনেকটা কঠিন হয়ে উঠবে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির এক নেতা বলেন, ১৯৯৫ সালে মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও শিবসেনার জোট ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু ১৯৯৯ সালে ফের বিজেপি ও শিবসেনার জোট ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। সুযোগের ব্যবহার করে কংগ্রেস, এনসিপি ও অন্যান্য ছোটদলগুলোর সঙ্গে জোট হয়ে সরকার গঠন করে। ১৫ বছর সেই সরকার ক্ষমতায় ছিল।

মহারাষ্ট্রে চাপে গেরুয়া শিবির
বিজেপি পাঁচ বছরের সরকারের মেয়াদ শেষ ও পরবর্তী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি ছিল। বরং মহাবিকাশ আঘাদি জোটের ফাটলগুলোকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। শিবসেনাকে বিভক্ত করতে সফল হয়েছে বিজেপি। শিন্ডের সঙ্গে ৪০ জন বিধায়ক ও ১২ জন সংসদের সমর্থনও পেয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে এই সমর্থন কতটা কাজে আসবে, বিজেপি সেই নিয়ে যদিও যথেষ্ঠ চিন্তায় রয়েছে।

উদ্ধব ঠাকরের বার্তা
অন্যদিকে, এমভিএ বৈঠকের পরেই উদ্ধব ঠাকরে বলেন, 'আমরা তিনটি দল একজোট হয়ে মহারাষ্ট্রে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা সফল হয়েছি। সেই তুলনায় এই বাদা(ফড়নবীশ-শিন্ডে) খুব গৌন। আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব। একজোট হয়ে দেশকে বার্তা দিতে সক্ষম হব।'












Click it and Unblock the Notifications