সন্দেহভাজনের তালিকায় কোয়াম্বাটুর বিস্ফোরণে নিহত, একাই মন্দিরে হামলার ছক করে মুবিন
সন্দেহভাজনের তালিকায় কোয়াম্বাটুর বিস্ফোরণে নিহত, একাই মন্দিরে হামলার ছক করে মুবিন
২৩ অক্টোবর কোয়াম্বটুরে গাড়ি বিস্ফোরণে মারা যায় জামিশা মুবিন। জামিশা মুবিনকে একবার এনআইএ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল বলে জানা যায়। সম্প্রতি তামিলনাড়ু প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়েন্দারা জামিশা মুবিন সহ ৯৬ জন সন্দেহভাজন এশএস জঙ্গির তালিকা প্রস্তুত করেছিল। চলতি বছর ১৯ জুলাই কোয়েম্বাটুরের পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিস্ফোরণের পরেই এই তালিকা তামিলনাড়ুর বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

রবিবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের পরেই সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি ও তাদের সাহায্যকারীদের তালিকা তামিলনাড়ুর সমস্ত শহর ও জেলায় কমিশনার এবং পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতীতে সন্দেহভাজন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। তল্লাশিও নেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের সোশ্যালমিডিয়ায় উপস্থিতি, সেখানে তাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট গোয়েন্দারা যাচাই করছে। কীভাবে আর্থিক সাহায্য তারা পাচ্ছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সন্দেহভাজনের তালিকায় জামিশা মুবিন ছিল। তারপরেও সে কীভাবে গোয়েন্দা ও পুলিশের নজর এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জামিশা মুবিন সাধারণত কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করত না। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকত। কোয়াম্বাটুরে গাড়িতে বিস্ফোরণের পরেই পুলিশ জামিশা মুবিনের বাড়ি তল্লাশি চালায়।
সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে এত বিস্ফোরক সংগ্রহ করল সেই নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দাদের সূত্রে জানানো হয়েছে, যাতে সন্দেহের তালিকায় মুবিন না থাকে, সেই কারণে বিস্ফোরক অল্প অল্প করে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই কারণেই বিস্ফোরক সংগ্রহের সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে গিয়েছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, মুবিন নিজেকে সামাজিক মেলামেশা থেকে দূরে রেখেছিল। তাই গোয়েন্দারা তার ওপর নজর রেখেও কিছু জানতে পারেনি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, মুবিনের সঙ্গে কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। সেইভাবে সে কারও সঙ্গে মেলামেশাও করত না। তবে গোয়েন্দারা অনুমান করতে পারেননি, মুবিন একা একা হামলার পরিকল্পনা করছেন। গোয়েন্দারা সাময়িকভাবে অনুমান করেছিলেন, মুবিন হয়তো জঙ্গি কার্যকলাপ থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications