কাশ্মীর সফর নিয়ে বিজেপিকে তোপ, মন্ত্রীদের কাপুরুষ আখ্যা দিলেন মণিশঙ্কর
জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। এবার সেই বিষয়ে সরব কংগ্রেস নেতা মণিশংকর আইয়ার। কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, 'জম্মু-কাশ্মীরে ৩৬ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পাঠিয়েছে তারা। কতটা কাপুরষ দেখুন, এর মধ্যে ৩১ জন জম্মু যাচ্ছেন আর মাত্র ৫ জন যাচ্ছেন কাশ্মীরে। তাঁরা কাদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছেন? ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফ্তি সবাই বন্দি। কাদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছেন তাঁরা?'

৭ দিনের সফরে জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৬ মন্ত্রী
এর আগে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, ৩৬ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাবেন। কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা মানুষকে বোঝাতে সেখানে যান মন্ত্রীরা। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহেরের পর প্রথমবার এরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

সফরের আগে ৪ নেতাকে মুক্তি
এই সফর শুরু একদিন আগেই চারজন কাশ্মীরি রাজনীতিবিদকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে জানানো হয় যে ন্যাশনাল কনফারেন্সের নাজির গুরেজি, পিডিপি-র আবদুল পক খান, পিপলস কনফারেন্লের মহম্মদ আব্বাস বানি ও কংগ্রেসের আবদুল রশিদকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকেই তাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।

প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মীরের জনগণকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ৩৭০ ধারা লাগু থাকার জেরে কী ভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছিল কাশ্মীরিদের। এরপর কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখাতে দুইবার বিদেশী প্রতিনিধি দল গিয়েছিল কাশ্মীর। কেন্দ্রের সহযোগিতাতেই তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।

৩৭০ ধারা প্রত্যাহার
৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার বাতিল করা হয়। এরপর অপর একটি আইন পাশ করিয়ে জম্মু ও কাশ্মিরকে এবং লাদাখকে পৃথক দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কথা ঘোষণা করা হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় বহুদিন। গ্রেফতার করা হয় সেখানকার বিচ্ছিনতাবাদী নেতা ও রাজনৈতিক নেতাদের। ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার আগেই প্রাক্তন তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারিক আব্দুল্লাহ, তাঁর ছেলে ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে আটক করে গৃহবন্দী করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications