রাজ্যে করোনা কেস ১১ লক্ষ অতিক্রম করবে এপ্রিলের মধ্যে, অনুমান মহারাষ্ট্র সরকারের
রাজ্যে করোনা কেস ১১ লক্ষ অতিক্রম করবে এপ্রিলের মধ্যে, অনুমান মহারাষ্ট্র সরকারের
দেশের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে মহারাষ্ট্র। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যদি পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত না নেওয়া হয় তবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যে সক্রিয় করোনা ভাইরাসের সংখ্যা ১১ লক্ষ অতিক্রম করে যেতে পারে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হয়ে গিয়েছে।

অনুমানের চেয়ে কেস রেকর্ড রাজ্য
রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখ্য সচিব প্রদীপ ব্যাস বুধবার জানিয়েছেন, 'আমরা যা অনুমান করছি তার চেয়ে অনেক বেশি কেস রেকর্ড হচ্ছে। এই ওয়েভের জেরে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি সক্রিয় করোনা কেস রেকর্ড হয়েছে। যা অনেক বেশি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আগের ওয়েভের চেয়ে। যদি এই গতিতেই কেস বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে আমরা এ রাজ্যে ৫৬৮,০০০ সক্রিয় করোনা কেস দেখতে পাব।'

বৃহস্পতিবার রাজ্যের পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে ৫৬,২৮৬ টি নতুন কোভিড-১৯ কেস সনাক্ত হয়েছে এবং ৩৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩,২২৯,৫৪৭ এবং মৃতের সংখ্যা ৫৭,০২৮। রাজ্যে সক্রিয় কেসের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫২১,৩১৭-তে। মহারাষ্ট্রে মৃত্যুর হার ১.৭৬ শতাংশ। বুধবার একদিনে রাজ্যে ২৩৬,৮১৫টি করোনা টেস্ট হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ শতাংশ পজিটিভ করোনা কেস বেরিয়েছে।

বুধবার মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি
অন্যদিকে, বুধবার রাজ্যে ৫৯,৯০৭টি কেস সনাক্ত হয়, যা মহামারি শুরু হওযার পর একদিনে সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার মুম্বইতে ৮,৯৩৮টি করোনা কেস সনাক্ত হয়েছে, যা এই বাণিজ্য শহরে পজিটিভ কেসকে ৪৯১,৯৮০-তে নিয়ে গিযেছে। বিএমসি জানিয়েছে যে শুক্রবার এই শহরে করোনা কেস ১৫ লক্ষ অতিক্রম করতে পারে। বৃহস্পতিবার মুম্বইতে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের, এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১১,৮৮১ জন।

কোভিড বেডের অভাব রাজ্যে
করোনার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য বেড উপলব্ধের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রী রাজেশ টোপে সব জেলা শাসক ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন যে বেড বরাদ্দের জন্য মুম্বইয়ের মডেল অনুসরণ করুক তারা। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ৮০.৫১ শতাংশ কোভিড-১৯ বেড দখল, ৩২.৭৭ শতাংশ অক্সিজেনযুক্ত বেড ও ৬০.৯৫ শতাংশ আইসিইউ বেড দখল রয়েছে।

১৮–৪৫ বছর বয়সীদের টিকাকরণ
বর্তমানে রাজ্যে ভ্যাকসিন ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, টোপে জানিয়েছেন যে রাজ্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছে যে ১৮-৪৫ বছর বয়সী নাগরিকদের টিকাকরণ করানো হোক কারণ এই বয়সের গোষ্ঠীর মধ্যেই সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৮,০৮১,৩৫৮ জন সুবিধাভোগী তাঁদের প্রথম ভ্যাকসিন ডোজ গ্রহণ করেছেন এবং ৮৭৪,৫৬০ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications