দারিদ্র মোচনে কলকাতার ছেলে অভিজিতের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিল নোবেল কমিটি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে অমর্ত সেনে হয়ে ফের নোবেল প্রাপ্তি হল বঙ্গের। এবারও সেই কলকাতার েছলে অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে অমর্ত সেনে হয়ে ফের নোবেল প্রাপ্তি হল বঙ্গের। এবারও সেই কলকাতার েছলে অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বাঙালি হিসেবে তিনিই চতুর্থ যাঁর ঝুলিতে এসেছে এই মহৎ সম্মান। তবে ভারতীয় বাঙালিদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। কারণ চারজন বাঙালির মধ্যে একজন বাংলাদেশি। তাই একেবারে কলকার ছেলের এই সম্মানে উচ্ছ্বসিত গোটা রাজ্য বলতে গেলে বঙ্গ সমাজ।

শৈশব , কৈশর, যৌবনের প্রায় পুরোটাই কলকাতায় কাটিয়েছেন অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার নামি স্কুল সাউথ পয়েন্টের ছাত্র ছিলেন তিনি। স্কুল পাশ করে প্রেসিডেন্সি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতেই স্নাতক হয়েছিলেন তিনি(১৯৮১)। তার পরে দিল্লির জেএনইউ থেকে অর্থনীতি নিয়ে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন (১৯৮৩)।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন হাভার্ডে। বাবা-মা দু'জনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ছিলেন। আর মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল মিডিয়ার অর্থনীতির অধ্যাপক। বাবা-মায়ের দৌলতেই অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনার অভ্যাসটা শৈশব থেকেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর।
একই সঙ্গে অধ্যাপনার কাজটাই বেশি পছন্দ করেছেন পেশা হিসেবে। আমেরিকার ফোর্ড ফাউন্ডেনে পড়ানো শুরু করেন তিনি। পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গবেষণা চলতে থাকে। দারিদ্র দূর করতে তাঁর অর্থনীতির গবেষণা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল অর্থনীতির মহলে। সেই গবেষণাই তাঁকে এনে দিয়েছে এই অনন্য সম্মান।
কর্মসূত্রে এখন হয়তো তিনি প্রবাসী ভারতীয়। আমেরিকাকেই দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে কলকাতা যে অনেকটা জায়গা জুড়ে রয়েছে সেটা বলাই বাহুল্য। কারণ প্রথম জীবনে সংসারটা এই কলকাতর মেয়েকে বিয়ে করেই শুরু করেছিলেম অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। সহপাঠী অরুন্ধতি তুলি বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিয়ে করেছিলেন তিনি। অরুন্ধতী নিজে সাহিত্যের অধ্যাপিকা। তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও হয়। ১৯৯১ সালে জন্মেছিল অভিজিত- অরুন্ধতির একমাত্র সন্তান কবির বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে মারা যায় কবির। তার আগে অবশ্য অভিজিত আর অরুন্ধতির বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।
দ্বিতীয়বার বিবাহ না করলেও নিজের এক সহকারী গবেষক এস্থার ডুপ্লোর সঙ্গে এখন থাকেন অভিজিত। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। ২০১২ সালে জন্ম হয় অভিজিতের দ্বিতীয় সন্তানের। ২০১৫ সালে সেই সহকারী গবেষককে বিয়ে করেন অভিজিত। তারপর থেকে তাঁরা আমেরিকাতেই রয়েছেন। কলকাতায় আসা না হলেও কলকাতার ছেলের এই অনন্য সম্মানে উচ্ছসিত মহানগর। এই নিয়ে দ্বিতীয় কোনও বাঙালি অর্থনীতিবিদ নোবেল পুরস্কার পেলেন।












Click it and Unblock the Notifications