কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল ২০২৩: কংগ্রেসের 'পঞ্চ পাণ্ডবে'র কাছে হার BJP! কে কে পালন করলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
নির্বাচন মানেই কৌশল। সেই কৌশল অবলন্বন করেই কংগ্রেস কর্নাটক নির্বাচন বিজেপিকে পরাস্ত করেছে। অন্যদিকে জেডিএসের সরকারের চালিকা শক্তি হওয়ার বাসনায় জল ঢেলেছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পরে কংগ্রেসের এই জয়কে দুর্দন্ত প্রত্যাবর্তনও বলছেন কেউ কেউ।
কর্নাটক নির্বাচনের প্রচারে অংস নিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, সনিয়া গান্ধী। ছিলেন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। এছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং রাজ্য সভাপতি ডিকে শিবকুমারের মতো নেতারা। এর পরেও পিঠন থেকে কৌশল অবলম্বন করে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁরাই এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এব্যাপারে প্রথমেও চলে আসে রণদীপ সুরজেওয়ালার নাম। ২০২০ সালে কেসি বেনুগোপালের জায়গায় কংগ্রেসের তরফে সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালাকে কর্নাটকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর সেই দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সুরজেওয়ালা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ভারত জোড়ো যাত্রার পরে নির্বাচনেও সেই বিষয়টি দেখা গিয়েছে।
সুরজেওয়ালা ১৯৯৬ সালে তৎকালীন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌতালাকে হারিয়ে শিরোনামে আসেন। তিনি হরিয়ানা বিধানসভার চারবারে বিধায়ক। কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সুরজেওয়ালাকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় পাঠায় কংগ্রেস।
এবারের নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেসকে যথেষ্টই আক্রমণাত্মক দেখা গিয়েছে। কংগ্রেস সেখানে ডোর টু ডোর প্রচার, জনসভা ও রোড শো করেছে। শেষ মুহূর্তে সনিয়া গান্ধীও সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়াও রাজ্যের দুই নেতা সিদ্দারামাইয়া এবং শিব কুমারকে জোন ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এবারে কংগ্রেসের আক্রমণাত্মক ও তীক্ষ্ম প্রচারের পিছনে ছিলেন এমবি পাতিল। তিনি লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের নেতা এবং কর্নাটক কংগ্রেসের প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি এক সময় লোকসভা সদস্য ছিলেন। কর্নাটক বিধানসভায় ৫ বারের বিধায়ক। আবার কর্নাটক সরকারের স্বরাষ্ট্র, জল সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন।
কর্নাটকের প্রতিটি আসনে কৌশল বাস্তবায়িত করতে বেঙ্গালুরুতে ওয়ার রুম তৈরি করেছিল কংগ্রেস। সেই ওয়ার রুমের হেল্পলাইন 24x7 কাজ করেছে। সেই ওয়াররুমের দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন আইএএস শশীকান্ত সেন্থিল। তামিলনাড়ুর বাসিন্দা হলেও তিনি কর্নাটক ক্যাডারের ২০০৯ ব্যাচের অফিসার ছিলেন। ২০১৯-এ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে চাকরি ছাড়েন।
কংগ্রেসের ইস্তেহার তৈরিতে গুরুত্ব ভূমিকা পালন করেছেন ডি পরমেশ্বরা। তিনি কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি এবং প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রীও বটে। একদিকে যেমন তিনি ১৯৯২ সালে বীরাপ্পা মইলি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন আবার তিনি ২০১৫ সালে সিদ্দারামাইয়া সরকারেও মন্ত্রী ছিলেন।

এবারের কর্নাটক নির্বাচনের কংগ্রেসের তরফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নির্বাচনী কৌশলবিদ সুনীল কানুগোলু। তিনি নির্বাচনের পুরো সময়ই ছিলেন কর্নাটকে। প্রার্থী নির্বাচন থেকে প্রচার কৌশল তৈরিতে প্রধান ভূমিকা ছিল তাঁর। ইস্তেহার তৈরিতেও তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
সুনীল কানুগোলু আমেরিকা থেকে এমবিএ করার পরে ২০০৯ সালে ভারতে আসেন। তিনি প্রশান্ত কিশোরের দলে যোগ দেন এবং ২০১৪-র নির্বাচনে মোদী তথা বিজেপির প্রচারে একসঙ্গে কাজ করেন। পরে পিকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হওয়ার পরেও বিজেপির কৌশল তৈরির দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশে বিজেপির নির্বাচনী কৌশল তিনিই তৈরি করেছিলেন।
বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরে সুনীল কানুগোলু ২০২২-এ পঞ্চাব বিধানসভা নির্বাচনে শিরোমনি অকালি দলের কৌশল তৈরি করেন। কংগ্রেস সূত্রে খবর ২০২২ সালে প্রশান্ত কিশোরে সঙ্গে আলোচনা সফল না হওয়ার কংগ্রেস সুনীল কানুগোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সুনীল কানুগোলু এখন কংগ্রেসের ২০২৪ টাস্ক ফোর্সের সদস্য।












Click it and Unblock the Notifications