ভারতীয় মহিলারা স্বামীদের নিয়ে ঈর্ষান্বিত! ভাগ করা মানতে পারেন না, জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
ভারতীয় মহিলারা স্বামীদের নিয়ে ঈর্ষান্বিত! ভাগ করা মানতে পারেন না, জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
ভারতীয় মহিলারা (Indian Women) তাঁদের স্বামীদের (husband) নিয়ে ঈর্ষান্বিত। অন্যদের সঙ্গে তাঁদেরকে ভাগ করে নেওয়া মেনে নিতে পারেন না। এমনটাই মন্তব্য করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)। একটি মামলায় রায় দিতে গিয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছে বিচারপতি রাহুল চতুর্বেদীর ডিভিশন বেঞ্চ।

ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বহাল
বিচারপতি রাহুল চতুর্বেদীর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিতে গিয়ে ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যা নিয়ে ট্রায়াল কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন ওই ব্যক্তি। সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি। আদালত বলেছিল অভিযুক্ত সুশীল কুমার তৃতীয়বার বিয়ে করেছিলেন, সম্ভবত সেই কারণেই তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন। আদালতের তরফে আরও বলা হয়েছে, এখ স্বামী যদি গোপনে অন্য মহিলাকে বিয়ে করেন, তাহলে তা স্ত্রীর জীবন শেষ করে দেওয়ার কারণের পক্ষে যথেষ্ট।

ভারতীয় মহিলারা স্বামীদের নিয়ে ঈর্ষান্বিত
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, ভারতীয় স্ত্রীরা আক্ষরিক অর্থেই তাঁদের স্বামীদের নিয়ে ঈর্ষান্বিত। যে কোনও বিবাহিত মহিলা তখনই বড় ধাক্কা খাবেন, যদি তিনি দেখেন, তাঁর স্বামীর ভাগ নিচ্ছে অন্য কোনও মহিলা। অর্থাৎ স্বামী যদি অন্য কোনও মহিলাকে বিয়ে করেন। এই পরিস্থিতিতে সেই ভুক্তভোগী মহিলার থেকে বিচক্ষণতা আশা করা সম্ভব নয় বলেও পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে আদালত। এক্ষেত্রেও একই জিনিস ঘটেছে বলে জানিয়েছে আদালত।

যে ঘটনার জেরে আদালতের এই অবস্থান
এলাহাবাদ হাইকোর্ট যেসব মন্তব্য করছে, তার পিছনে রয়েছে বারাণসীর মান্ডুয়াদিহি থানায় দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে। মহিলা আত্মহত্যা করার আগে স্বামী সুশীল কুমার এবং তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার মধ্যে ছিল স্বেচ্ছায় আঘাত করা, ভয় দেখনো এবং স্ত্রী বেঁচে থাকতে ফের বিয়ে করার মতো অভিযোগ।
এফআইআরে স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, স্বামী ইতিমধ্যেই দুই সন্তানের বাবা। তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ না করেই তৃতীয়বারের জন্য বিয়ে করেছেন। স্বামী ছাড়াও শ্বশুর বাড়ির লোকের তাঁকে লাঞ্ছিত এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন।

অভিযুক্তদের বিচার করার প্রমাণ রয়েছে
জানা গিয়েছে, থানায় এফআইআরের পরেই ওই মহিলা বিষ খান, তারপরেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ তদন্ত করে স্বামী ও পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। স্ত্রীর আত্মহত্যার পরে পুলিশ এগোতে থাকে আগের মামলা নিয়েই। সেই মতোই রায় দেয় ট্রায়াল কোর্ট। হাইকোর্ট মহিলার স্বামীর সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে তা হাইকোর্টেও খারিজ হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications