লাদাখ সীমান্তে শক্তিশালী সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে সেনাদের, প্যাংগং হ্রদে মোতায়েন অ্যালাল্ট জাহাজ
লাদাখ সীমান্তে শক্তিশালী সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে সেনাদের, প্যাংগং হ্রদে মোতায়েন অ্যালাল্ট জাহাজ
লাদাখে এলএসি বরাবর সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে প্যাংগং লেকে একটি জাহাজ মোতায়েন করেছে। ল্যান্ডিং ক্র্যাফট অ্যাসাল্টটি আদতে একটি অতি শক্তিশালী প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি জাহাজ। পূর্ব লাদাখ সীমান্তে দুই বছর আগে চিনের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিরক্ষা দফতর আগাম সতর্কতা হিসেবে ল্যান্ডি ক্র্যাফট অ্যাসল্ট মোতায়েন করেছে।

গোয়ার অ্যাকোরিয়াস শিপ লিমিটিডের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ল্যান্ডিং ক্র্যাফট অ্যাসাল্টটি দেশীয় পদ্ধতি তৈরি ক্ষমতাশালী একটি জাহাজ। এলএসি বরাবর ইন্দো-চিন উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে প্যাংগং হ্রদে ল্যান্ডিং ক্র্যাফট অ্যাসাল্ট মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে প্যাংগং হ্রদের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যাতে কোনও ধরনের বাধার মুখে পড়তে না হয়, সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা হয়েছে। এছাড়াও পূর্ব লাদাখের সীমান্তকে নজরে রেখে সেনা মজুত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দেশের উত্তর সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা রয়েছে। কিন্তু সেই সেনাদের কোনও সুরক্ষা নেই বললেই চলে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ ভালো না থাকার কারণে তাঁদের গতিবিধি খুব সীমিত। সীমান্তে এই অবস্থায় সেনাদের নিরাপত্তা দিতে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম লিমিটেডের তৈরি ইনফ্যান্ট্রি প্রোটেক্টেড মোবিলিটি ভেহিকল মোতায়েন করা হয়েছে। এই যানটি সেনাদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি ইনফ্যান্ট্রি প্রোটেক্টেড মোবিলিটি ভেহিকলের সাহায্য সেনাদের টহল দেওয়া আগের থেকে অনেক সহজ হবে। এমনকী আক্রমণাত্মক অভিযানের ক্ষেত্রেও এই যান ব্যবহার করা যাবে। প্রসঙ্গত এলএসি বরাবর সেনারা কোনও অস্ত্র ব্যবহার করত না। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় চিনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। এরপরেই এলএসিতে অস্ত্র আইন পরিবর্তন করা হয়। আগে এলএসি বরাব কোনও সামরিক যানও ব্যববার করা যেত না। বর্তমানে এলএসি বরাবর সেনাদের সামরিক অস্ত্র ও উন্নতি প্রযুক্তির সামরিক যানে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
পূর্ব লাদাখ সীমান্তে সেনাদের আরও শক্তিশালী করতে ইনফ্যান্ট্রি প্রোটেক্টেড মোবিলিটি ভেহিকলের সঙ্গে কুইক রিঅ্যাকশন ফাইটিং ভেহিকল মোতায়েন করতে চলেছে। এর ফলে দ্রুত পূর্ব লাদাখ সীমান্তে সেনা মোতায়েন সহজ করবে। এই যানটিও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম লিমিটেডের থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কুইক রিঅ্যাকশন ফাইটিং ভেহিকলগুলোর সাহায্যে সেনাদের দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি সেনাদের সুরক্ষা দিতেই বিশেষ পদ্ধতিতে এই গাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছে। উত্তর সীমান্তের উচ্চতায় এই গাড়িগুলো অত্যন্ত সাবলীল বলে জানা গিয়েছে।
দেশের অন্যতম চ্যাললেঞ্জিং সেক্টর হল সিয়াচেন। এই সীমান্তে এতদিন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ও বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে জেনারেটর ব্যবহার করা হতো। কেরোসিন তেল বা এই জাতীয় প্রচলিত জ্বালানি শক্তির মূল উৎস ছিল। সেখানে বর্তমানে সৌর ভোল্টাইক প্ল্যান্ট স্থাপন কর হয়েছে। যার সিয়াচেন সেক্টরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতাল, নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতের সেনাবাহিনীকে তিনটি প্রাইমারি সাব সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম প্রাইমারি সাব সিস্টেম হল অত্যাধুনিকমানের অ্যাসাল্ট রাইফেল। এই রাইফেলগুলো প্রয়োজন অনুসারে একটি থার্মাল ইমেজার সাইট তৈরি করতে সক্ষম। এছাড়াও সেনাদের মাল্টি মোড হ্যান্ড গ্রেনেডও দেওয়া হবে। একটি দ্বিতীয় প্রাইমারি সাব সিস্টেম। সম্পূর্ণ দেশীর পদ্ধতিতে তৈরি এই অস্ত্র। তৃতীয় প্রাইমারি সাব স্টিমের মধ্যে রয়েছে হ্যান্ড ফ্রি রেডিও সেট। এই হ্যান্ড ফ্রি রেডিও সেট সেনারা বহন করতে পারবে। পাশাপাশি নজরদারির জন্য ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে।












Click it and Unblock the Notifications