ত্রিপুরায় CPIM-কে ভোট দেওয়ার অর্থ সন্ত্রাসকে আমন্ত্রণ! তিপ্রা মোথার সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ অমিত শাহের
ত্রিপুরায় এবার ত্রিমুখী লড়াই। বিশ্লেষকরা বলছেন বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা বেশ খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বিজেপিকে। এছাড়াও তিপ্রা মোথার অবস্থান নিয়েও চিন্তিত তারা। সেই মতোই এদিন প্রচার সারলেন অমিত শাহ।
ত্রিপুরায় বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতা হয়েছে। আবার তিপ্রা মোথা ট্যাকটিক্যাল সাপোর্টের কথা বলেছে বামেদের। এদিন ভোট প্রচারে ত্রিপুরায় গিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বাম-কংগ্রেস এবং তিপ্রা মোথাকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, সিপিআইএমকে ভোট দেওয়ার অর্থ হল রাজ্যে ফের সন্ত্রাস ফিরিয়ে আনা।

গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন ত্রিপুরায় দুটি নির্বাচনী সভা করেন। যার প্রথমটি ছিল শান্তিরবাজারে। সেখানে তিনি প্রদ্যোৎ মানিক্য দেববর্মার সঙ্গে সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগ করেন।

সিপিআইএম-কংগ্রেসকে নিশানা
অমিত শাহ এদিন একযোগে সিপিআইএম এবং কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, সিপিআইএমকে ভোট দেওয়ার অর্থ রাজ্যে ফের সন্ত্রাস ফিরিয়ে আনা। আর কংগ্রেস ও তিপ্রা মোথাকে ভোট দেওয়ার অর্থ সিপিআইএমকে ভোট দেওয়া। তাঁর দাবি গত পাঁচ বছরে দুই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি আগেকার জঙ্গি সমস্যা আর অনুপ্রবেশের সমস্যা এখন নেই। তিনি একইসঙ্গে কংগ্রেস আর সিপিআইএমকে নিশানা করে বলেছেন, দুই দল ৫০ বছরের বেশি সময় ত্রিপুরা শাসন করেছে। সেই সময় ত্রিপুরার কোনও উন্নয়ন হয়নি। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন এই দুই দল শুধু অন্ধকার দিয়েছে। কিন্তু তারা (বিজেপি) জনগণকে অধিকার দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই দুই দল উপজাতিদের কখনই সম্মান করেনি।

উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন নিশ্চিত
অমিত শাহ এদিন দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন নিশ্চিত করেছেন। বিজেপিই বছরের পর বছর ধরে উত্তর-পূর্বে হওয়া অবহেলার অবসান করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি
১৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ৬০ টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৫৫ টিতে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে জোট সঙ্গী আইপিএফটিকে ৫ টি আসন ছেড়েছে। অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস যথাক্রমে ৪৬ ও ১৩ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, একটি আসনে লড়াই করছেন এক নির্দল প্রার্থী। অন্যদিরে তিপ্রা মোথা প্রার্থী দিয়েছে ৪২ টি আসনে। এর মধ্যে উপজাতি সংরক্ষিত ২০ টি আসন রয়েছে। ত্রিপুরায় ক্ষমতায় ফিরতে ৬০ টি আসনের মধ্যে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ২০ টি আসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত ২০১৮-র নির্বাচনে বিজেপি এই কুড়িটি আসনের মধ্যে ১০ টি দখল করেছিল। আইপিএফটি পেয়েছিল ৮ টি এবং বামেরা ২ টি। এবার উপজাতি সংরক্ষিত আসনে সক্রিয় তিপ্রা মোথা। ফলে শেষ পর্যন্ত ত্রিপুরার নির্বাচনী ফল কী হয় তার জন্য মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications