হতাশা ছাড়া কিছুই হচ্ছে না, বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির বিরোধিতায় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সচিব
হতাশা ছাড়া কিছুই হচ্ছে না, বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির বিরোধিতায় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সচিব
বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির ঘটনায় বিতর্কের পারদ ক্রমেই বাড়ছে। গুজরাত সরকারের বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন আইএএস অফিসার তথা তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সচিব স্মিতা সবরওয়াল। তিনি বিলকিস বানোর জন্য ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, গুজরাত সরকারের এই সিদ্ধান্তে হতাশা ছাড়া কিছুই হচ্ছে না।

সরব তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সচিব
স্মিতা সবরওয়াল টুইটারে বলেন, 'খবরটা পড়ার সময় বিশ্বাস হচ্ছিল না। একজন মহিলা ও একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে খবরটা পড়ে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমরা আবার ভয় ছাড়া শ্বাস নেওয়ার অধিকার হারাতে চাই না। এই ধরনের ঘটনায় নিজেদের একটি স্বাধীন জাতি বলে মনে করতে পারছি না। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিলকিস বানোর জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেন।'

তেলেঙ্গানা মন্ত্রীর আবেদন
তেলেঙ্গানার মন্ত্রী কেটি রামা রাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গুজরাত সরকারের ১১ জন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, 'স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লা থেকে মহিলাদের সম্পর্কে আপনি যা বলেছিলেন, তা যদি সত্যি বাস্তবে পরিণত করতে চান, সেক্ষেত্রে ঘটনাটিতে আপনি হস্তক্ষেপ করুন। বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।'
প্রসঙ্গত, লালকেল্লার থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি মহিলাদের সম্মানের কথা বলেন। ঠিক সেই দিনই বিলকিস বানো মামলায় সাতজনকে গণধর্ষণ ও খুলের ১১ অপরাধীকে গোধরা জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। গুজরাত সরকার তাদের মুক্তি দেয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশ জিড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের ক্ষমা
২০০২ সালে গোধরা পরবর্তী বিলকিস বানো মামলায় ১১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। আসামিদের চলতি বছর স্বাধীনতা দিবেসর দিন মুক্তি দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি ২০০৮ সালে মুম্বইয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত বিলকিল বানোর পরিবারের সাতজনকে গণধর্ষণ ও হত্যার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরে বোম্বে হাইকোর্ট তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। আসামি ১১ জন ১৫ বছরের বেশি জেলে ছিল। আসামিদের একজন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন জামিনের। গোধরা জেলার কালেক্টর সুজয় মায়াত্র জানিয়েছেন, আসামিদের সাজা মুকুবের জন্য গুজরাত সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কয়েক মাস আগে কমিটি ক্ষমার সুপারিশ গুজরাত সরকারকে পাঠায়। এরপরেই আসামিদের মুক্তির আদেশ গুজরাত সরকার দেয় বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications