আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের নামে প্রহসন, ৩ রাজ্যে যা ঘটল তাতে প্রশাসনকে ধিক্কার জানাবে মানুষ
আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চকুলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হরিয়ানা সরকার, উঠছে একাধিক প্রশ্ন
আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চকুলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হরিয়ানা সরকার। অন্তত সেখানকার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সেকথাই বলছে। চারদিন আগে থেকে ডেরা সাচ্চা ভক্তরা পঞ্চাব ও হরিয়ানায় জমায়েত হচ্ছিল বলে আগেই খবর ছিল পুলিশ প্রশাসনের কাছে। জারি করা হয়েছিল ১৪৪ ধারাও। তা সত্ত্বেও কীভাবে কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়ে হামলা চালাল সেই প্রশ্ন উঠে এসেছে। যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, এবং এতগুলি প্রাণহানির ঘটনা ঘটল তার দায় কে নেবে।

ধর্ষণ মামলায় শুক্রবার গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের রায় ঘোষণার কথা আগে থেকেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল পঞ্চকুলায়। এমনকী বৃহস্পতিবার রাতেই সেনার সঙ্গে কথা বলে আগে থেকেই সেনাও নামানো হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে রাম রহিমের ভক্তরা যে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তা আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল। সরকার সেই মতই ব্যবস্থাও নিয়েছিল। কিন্তু রায়দানের পর দেখা গেল রাম রহিমকে অজ্ঞাত কোনও জায়গাতে নিয়ে যাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিল রাজ্য সরকার। সিবিআই-এর বিশেষ আদালত পর্যন্ত কয়েকশো লোক কীভাবে পৌঁছে গেল তা নিয়ে ইতিমধ্য়েই প্রশ্ন উঠেছে মনোহরলাল খট্টরের সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকী মোহালি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলেও পরিণত করা হয়েছিল, কিন্তু একজন বিক্ষোভকারীকেরও গ্রেফতার করতে কেন পারল না পুলিশ।

ছিল না পর্যাপ্ত দমকল ব্যবস্থা, ফলে শতাধিক গাড়ি, বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে নির্বিঘ্নে আগুন ধরিয়ে দিতে পারল দাঙ্গাকারীরা। সেই আগুন ঠেকানোর কোনও চেষ্টাও করতে দেখা গেল না পুলিশকে। এমনকী তাণ্ডবকারীদের তুলনায় পুলিশের সংখ্যাও ছিল হাতে গোনা। হাজার হাজার ভক্তকে রুখতে এই পুলিশবাহিনী যে পর্যাপ্ত নয়, তা কি আগে বুঝতে পারেনি সরকার? বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ঢিল থেকে বাঁচতে পালাতে হল পুলিশকেই। কাঁদানে গ্য়াস ছোঁড়া হয় ঠিকই কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরিস্থিতি সামলাতে আগে থেকেই সেনাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীকে কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ করেই রেখে দেওয়া হয়। গোটা পঞ্চকুলাজুড়ে এই তাণ্ডব ঠেকাতে অসহায় দেখিয়েছে পুলিশকে।

শুক্রবারের ঘটনার পর হরিয়ানা সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। পরিস্থিতি নিয়ে পঞ্জাব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের পদত্য়াগ দাবি করেছে বিরোধীরা। তাহলে কী ৫ কোটি ভোঠ ব্যাঙ্ক বাঁচাতেই পঞ্চকুলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বলতে দিল রাজ্যের বিজেপি সরকার? এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সরকারকেই।












Click it and Unblock the Notifications