২০০২ গুজরাত দাঙ্গায় নিহত তিন ব্রিটিশ নাগরিকের দেহাবশেষ ফেরত চাইল ইংল্যান্ড
২০০২ গুজরাট দাঙ্গায় নিহত তিন ব্রিটিশ নাগরিকের দেহাবশেষ ফেরত চাইল ইংল্যান্ড
বুধবার ইউনাইটেড কিংডমের পার্লামেন্টে '২০০২ গুজরাত দাঙ্গার ২০তম বার্ষিকী' নিয়ে একটি বিতর্ক চলাকালীন, লেবার পার্টির এমপি কিম লিডবিটার দাঙ্গার শিকার তিন ব্রিটিশের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানালেন। তিনি তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড কিংডমের করানরের তদন্তও চেয়েছেন।

সাংসদ কিম লিডবিটার ইয়র্কশায়ার এবং ইংল্যান্ডের হাম্বার অঞ্চলের ব্যাটলি এবং স্পেন থেকে তার নির্বাচকদের পক্ষে কথা বলেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী আমান্ডা মিলিং বলেছেন, মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার দাবি ব্রিটিশ সরকার সমর্থন করবে।
ইউনাইটেড কিংডমের পার্লামেন্টে এই ঘটনাগুলির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশন বলেছে যে, 'এটি কুড়ি বছর আগে ভারতে ঘটে যাওয়া একটি দুঃখজনক ঘটনা। এ নিয়ে আমরা আলোচনা করব। তবে, ঘটনা হল নিহতদের পরিবার এখনও ভারতীয় কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি'। ভারতীয় হাইকমিশনের মন্ত্রী (রাজনৈতিক, প্রেস ও তথ্য) বিশ্বেশ নেগি বলেছেন, 'ভারতীয় হাইকমিশন বলতে চায় যে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করা করেনি।'
ঘটনা হল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময়, এমপি লিডবিটার ২০০২ সালে তিনজন ব্রিটিশ ব্যক্তি এবং তাদের ভারতীয় ড্রাইভারের মৃত্যুর ঘটনাগুলি বর্ণনা করেন। তিনি বর্ণনা অনুযায়ী, '২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০২এ, চারজন পর্যটক তাজমহল পরিদর্শন করার পর ফিরছিলেন। এদের নাম শাকিল এবং সাঈদ দাউদ, তাদের ১৮ বছর বয়সী ভাইপো ইমরান এবং তাদের ছোটবেলার বন্ধু মহাম্মদ আসওয়াত। তারা গুজরাটে রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই, তাদের জীপ একটি রাস্তার অবরোধে থামানো হয়।
তাদের ধর্ম জানার দাবিতে এক দল জনতা গাড়িটিকে ঘেরাও করে। তারা উত্তর দেয় যে তারা মুসলিম এবং কিন্তু তারা ব্রিটিশ নাগরিক। পরবর্তী সহিংসতায় শাকিল, সাঈদ, মোহাম্মদ এবং এরপর তাদের ড্রাইভার সহ প্রায় সবাইকে মেরে ফেলা হয়। অলৌকিকভাবে ইমরান দাউদ বেঁচে যান, এবং তিনি আজ বেঁচে আছেন। তার সাক্ষ্যের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি কী ছিল সেদিনের পরিস্থিতি।'
তিনি আরও বলেন 'শাকিল, সাঈদ ,মহাম্মদকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি আমরা কিন্তু তার মানে এই নয় যে দাউদের পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কিছুই করা যাবে না। এটি তাদের প্রচণ্ড দুঃখজনক ঘটনা যে যে ওই তিন যুবকের দেহাবশেষও তাদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি' কিম লিডার শেষে বলেন, 'আমি মন্ত্রীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করতে বলেছিলাম যদি দেহাবশেষের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়।
যদি তাই হয়, তা যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করা হয়।' ব্রিটিশ এমপি লিডবিটারের প্রতিক্রিয়ায়, পররাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী আমান্ডা মিলিং বলেছেন, 'আমরা ২০০২ সাল থেকে ব্রিটিশ নিহতদের পরিবারকে নাগাড়ে সহায়তা করেছি এবং আমরা প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখব।
আমি স্বীকার করছি এটা ওই পরিবারের কাছে সত্যি দুঃখজনক ঘটনা যে তাদের প্রিয়জনের দেহাবশেষ তাদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। পরিবারের আইনী প্রতিনিধির দ্বারা আমাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছে এবং এটি হয়ে গেলে আমরা এই আবেদনটিকে সমর্থন করতে প্রস্তুত আছি।'
আমান্ডা মিলিং যোগ করেছেন যে , 'বিশ্বজুড়ে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইউনাইটেড কিংডম এবং ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, প্রাচীনতম গণতন্ত্রগুলির মধ্যে ভারতের গণতন্ত্র একটি এবং বিশ্বের বৃহত্তমও বটে। ২০০২ সালে গুজরাটে সহিংসতার ঘটনাটি গুরুতর এবং দুঃখজনক ছিল। আমাদের উভয় দেশ আমাদের গণতন্ত্রের মাধ্যমে এই সমস্যার ভাগ করে নেব'।
তিনি হাউসকে মনে করিয়ে দেন, যে ভারতের বৈচিত্র্যের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে এবং ব্রিটেন "তার শক্তিশালী সংবিধানে নিশ্চিত করা সমস্ত স্বাধীনতা এবং অধিকার সমুন্নত রাখতে" ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, "ভারত যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিক দিকের কেন্দ্রবিন্দু এবং উভয় সরকারই সম্পর্ককে শক্তিশালীকরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সম্প্রতি ইউকে-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করেছি।ভারত বিশ্বের ফার্মেসি এবং ভ্যাকসিনগুলিতে বিশ্বব্যাপী অ্যাক্সেসকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক মান সমুন্নত রাখতে একসঙ্গে কাজ করব। আমরা ভারতকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
এই প্রসঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিক বিশ্বেশ নেগি বলেছেন, " ভারতীয় সরকারের অধীনে, ঘটনাগুলির তদন্তের মধ্যে রয়েছে এবং এ নিয়ে ভারতের সংসদে মুক্ত বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে৷ একটি সুন্দর গণতন্ত্রের মতো, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা গঠিত বিশেষ তদন্ত দলের নেতৃত্বে ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে পাবলিক ডোমেনে রাখা হয়েছে।
তিনি যোগ করেছেন, "ভারত শুধুমাত্র বিশ্বের বৃহত্তম কার্যকরী গণতন্ত্র নয়, এটি অনন্যভাবে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উদাহরণও দেয়।
আমাদের অভ্যন্তরীণ আইন এবং পররাষ্ট্র নীতি ভারতের সংবিধানে বর্ণিত নীতিগুলির দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এটি আমাদের জনগণকে তাদের সমস্যাগুলিকে গণতান্ত্রিকভাবে এবং আমাদের আইনসভা এবং বিচার বিভাগ সহ আমাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমাধান করতে সক্ষম করে।"












Click it and Unblock the Notifications