রাহুলের স্বস্তি মিলল না মানহানির মামলায়, আবেদন খারিজ গুজরাত হাইকোর্টের
রাহুল গান্ধী মোদী পদবি নিয়ে মন্তব্যের মামলার দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন। তারপরই তাঁর লোকসভার সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যায়। এই মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধী অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার জন্য গুজরাত হাইকোর্টে আবেদন করেও স্বস্তি পেলেন না। মেদী পদবি মন্তব্যে মানহানির মামলায় আবেদন খারিজ করে দিল গুজরাত হাইকোর্ট।

এদিন মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধীকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিল না গুজরাত হাইকোর্ট। বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছক জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেওয়ার কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। ফলে সুরক্ষা কবচ মিল না রাহুল গান্ধীর।
'মোদী পদবি' নিয়ে মন্তব্যের জন্য ফৌজদারি মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দু-বচৎরে কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীকে একইসঙ্গে একমাসের জামিনও দিয়েছিল নিম্ন আদালত। কিন্তু হাইকোর্টে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করল না। এর ফলে রাহুল গান্ধীর জেলযাত্রা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর আবেদনের শুনানির দ্বিতীয় দিনে সুরাত আদালতের তাঁর দোষীসাব্যস্ত হওয়ার উপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছক এই মামলার রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে দেন। উচ্চ আদালত গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য ৮ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

বিচারপতি চূড়ান্ত রায়ের প্রত্যাশিত সময়সীমা নির্দেশ করার পরে রাহুল গান্ধীর আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিংভি অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। বিচারপতি প্রচ্ছক বলেন, তিনি চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে সুরাতের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ঘটে যাওয়া পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি শুনতে চান।
এদিকে মঙ্গলবার অভিযোগকারী পূর্ণেশ মোদীর আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন, আদালতের কক্ষে কংগ্রেস নেতার অবস্থান জনসাধারণের থেকে আলাদা। এই বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। এখন রাহুল গান্ধীর উপর খাঁড়া ঝুলছে, বিচারপতি রায় পিছিয়ে দিয়ে রাহুল গান্ধীকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীকে গুজরাতের সুরাত আদালতে মোদী পদবি মামলায় দু-বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়ার পর লোকসভার তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর সংসদ সদস্যপদও কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর সুরাতের ফৌজদারি আদালতে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি রাহুল গান্ধীর। এখন তিনি গুজরাত হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েও কোনো সুরাহা করতে পারলেন না।

মোদী পদবি নিয়ে মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধীকে দু-বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল সুরাত আদালত। সেই মামলায় রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুরাতের দায়রা আদালতে আবেদন করেন রাহুল। মানহানির মামলার রায় বাতিলের আবেদন জানান। একই আবেদন তিনি করেন হাইকোর্টেও।
কিন্তু রাহুল গান্ধী তাঁর দোষীসাব্যস্ত হওয়া ও সাজা ঘোষণার রায়কে চ্যালেঞ্জ করেও কোনো ফায়দা তুলতে পারলেন না। তবে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেননি বিচারপতি। এই মমলার রায় গ্রীষ্মের ছুটির পর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সেখানেই বেধেছে গোল। কেননা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাও দেয়নি আদালত।












Click it and Unblock the Notifications