NCERT-র বইয়ে চিনের আগ্রাসন থেকে বাবরি মসজিদ! দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের তুলনা একনজরে
ফের একবার পাঠ্যক্রম সংশোধন করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং। যা নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সাফাই দিয়েছেন এনসিইআরটির প্রধান দীনেশ প্রসাদ সাকলানি। তিনি বলেছেন, ইতিবাচক নাগরিক তৈরির চেষ্টাতেই এটা করা হয়েছে।
এনসিইআরটির দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বাবরি মসজিদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে তিন গম্বুজ কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অযোধ্যার বিষয়টি সম্পর্কে তথয চাার পাতা থেকে কমিয়ে দুই পাতায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

- বাবরি মসজিদ
আগেকাার পাঠ্যপুস্তকে বাবরি মসজিদকে ১৬ শতকের একটি মসজিদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। যা কিনা মোঘল সম্রাট বাবরের বাহিনীর প্রধান মীর বাকি তৈরি করেছল। সংশোধিত পুস্তকে এটিকে ১৫২৮ সালে শ্রীরামের জন্মস্থানে তৈরি একটি তিন গম্বুজের কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ভিতরে ও বাইরে হিন্দু প্রতীক ও ধ্বংসাবশেষ ছিল বলেও লেখা হয়েছে।
এছাড়াও এবারের সংশোধিত বইয়ে নতুন অধ্যায়ে অযোধ্যা বিরোধী সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে কোনও সমাজে দ্বন্দ্ব অনিবার্য, কিন্তু আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমাধান করা হয় বলেও লেখা হয়েছে।
পুরনো পাঠ্যপুস্তকে ১৯৯২-এর ৭ ডিসেম্বরের সংবাদপত্রের ক্লিপিংস ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল কেন্দ্র উত্তর প্রদেশ সরকারকে বরখাস্ত করেছিল। এবারের সংশোধিত বইয়ে সেইসব ক্লিপিংস নেই।
- চিনের আগ্রাসন
এই পরিবর্তন শুধু বাবরি মসজিদেই থেমে নেই। আজাদ কাশ্মীর ও চিনা আগ্রাসনও সংযোজিত হয়েছে। সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতির অধ্যায়ে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে বলা ছিল দুদেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও সামরিক সংঘর্ষ সম্পর্কের আশাকে নষ্ট করে দিয়েছে। সংশোধিত বইয়ে বলা হয়েছে ভারতীয় সীমান্তে চিনার আগ্রাসন সম্পর্কের আশাকে নষ্ট করে দিয়েছে।
- আজাদ কাশ্মীর
বইয়ে আজাদ কাশ্মীর শব্দ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে লেখা ছিল ভারতের দাবি ওই অঞ্চলটি অবৈধ দখলদারদের অধীনে রয়েছে। আর পাকিস্তান ওই অঞ্চলটিকে আজাদ পাকিস্তান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংশোঝিত বইয়ে লেখা হয়েছে এটি ভারতীয় ভূখণ্ড, যা পাকিস্তান বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।
- ৩৭০ ধারা
এসেছে ৩৭০ ধারা প্রসঙ্গও। আগের বইয়ে লেখা ছিল বেশিরভাাগ রাজ্যে সমান ক্ষমতা থাকলেও জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বের মতো এমন কিছু রাজ্য রয়েছে, যেখানে রাজ্যগুলির জন্য বহিশেষ বিধান রয়েছে। নতনু বইয়ে লেখা হয়েছে, যদিও বেশিরভাগ রাজ্যের সমান ক্ষমতা রয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মতো কিছু রাজ্যের জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে। তারপরেই বলা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য বিশেষ অনুচ্ছেদ ৩৭০, ২০১৯-এর অগাস্টে বাতিল করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications