বিয়েতে জোর করে যৌন সম্পর্ক অবৈধ নয়, অভিযুক্ত স্বামীকে জামিন দিল মুম্বই আদালত
বিয়ের পর বলপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার ঘটনা এই দেশে হামেশাই হচ্ছে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের অতিরিক্ত দায়রা আদালতে এ ধরনের একটি অভিযোগ করেন এক মহিলা। যদিও অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক সঞ্জশ্রী জে ঘরাত লক্ষ্য করেছেন যে স্বামীর ওপর জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে মহিলার অভিযোগ তা আইনি তদন্তের যোগ্য নয়।

জোর করে যৌন সম্পর্ক
বিচারক জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত 'স্বামী বলে এটা বলা যাবে না যে সে কোন অবৈধ কাজ করেছে।' প্রসিকিউশনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর ওই মহিলার বিয়ে হয়। ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন যে বিয়ের পর তাঁর স্বামী ও তাঁর পরিবার তাঁর ওপর বহু বিধি-নিষেধ চাপিয়ে দেয়। এমনকী তাঁকে কটাক্ষ করতে শুরু করে হেনস্থা করে এবং বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার দাবি জানায়। মহিলার এও অভিযোগ ছিল যে বিয়ের একমাস পরে তাঁর স্বামী তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে।

পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন মহিলা
এ বছরের ২ জানুয়ারি ওই দম্পতি মহাবলেশ্বরে যান এবং সেখানে গিয়েও একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হয়। এরপর, ওই মহিলা অভিযোগ করেন যে তাঁর শরীর খারাপ লাগছে এবং চিকিৎসকের কাছে যান। ডাক্তারি পরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন যে ওই মহিলার কোমর থেকে পক্ষাঘাত হয়ে গিয়েছে। এরপরই ওই মহিলা মুম্বই পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেন তাঁর স্বামী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। মহিলার স্বামী আদালতে অন্তর্বতীকালীন জামিনের আবেদন করেন।

স্বামীও অভিযোগ করেন স্ত্রীর বিরুদ্ধে
আদালতে শুনানি চলাকালীন স্বামী ও তাঁর পরিবার জানান যে তাঁদের মিথ্যা এই অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে এবং তাঁরা কোনও পণের দাবিও করেননি। তাঁরা আদালতে বরং জানিয়েছেন মহিলার স্বামীও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং স্ত্রীর কিছু পরিবারের সদস্যের নামও রয়েছে অভিযোগে।

স্বামী ও পরিবারের পক্ষে আদালত
তবে অভিযুক্তকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করেন প্রসেকিউটার। যদিও বিচারক লক্ষ্য করেন যে পণের দাবির অভিযোগ করলেও কত টাকা পণ চেয়েছিল স্বামী ও তাঁর পরিবার সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি মহিলা। এছাড়াও আদালত এও লক্ষ্য করেন যে জোর করে যৌন সম্পর্ক করার বিষয়টিরও কোনও আইনি তদন্তের প্রয়োজন নেই। বিচারক ঘরাত বলেন, 'এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে তরুণী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছিল। তবে, আবেদনকারীদের (স্বামী এবং পরিবার) এর জন্য দায়ী করা যাবে না। আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন দেখে, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। আবেদনকারীরা তদন্তের সময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।' এরপরই অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
{quiz_679}












Click it and Unblock the Notifications