টানটান উত্তেজনার মধ্যে আজ ফ্লোর টেস্ট মধ্যপ্রদেশে! কমলনাথের সরকার কি বাঁচবে?
সোমবার মধ্যপ্রদেশের বিধানসভায় কমলনাথের শক্তি পরীক্ষা। গত কয়েকদিন ধরেই এই নিয়ে জোর তৎপরতা দেখা গিয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপি শিবিরে। আজকের এই আস্থা ভোট টিভিতে সরাসরি সম্পরচারিত হবে। মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাল লালাজি ট্যান্ডনের নির্দেশেই আজ এই আস্থা ভোট হওয়ার কথা বিধানসভায়। তবে তাজ্জব কথা যে বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে কিন্তু এই বিষয়টি 'লিস্টেড' বা তালিকাভুক্ত নয়। মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক মোড় এখন কোন দিকে ঘোরে, তার দিকেই নজর সবার।

বিধায়কদের হুইপ জারি বিজেপির
আজকের এই ফ্লোর টেস্টের কথা মাথায় রেখে আগেই বিজেপির দলীয় বিধায়কের প্রতি হুইপ জারি হয়েছিল। সবাইকে আজ বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের হাইকমান্ডের তরফে। এর আগে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়ে সোমবার আস্থা ভোটের আবেদন জানিয়েছিল বিজেপি। এরপর রাতেই আস্থা ভোটের দিন স্থির করে সেই মত নির্দেশ দেন বিধানসভার অধ্যক্ষকে।

তৈরি হচ্ছে কংগ্রেসও
এদিকে আস্থা ভোটের জন্য তৈরি হচ্ছে কংগ্রেসও। জয়পুর থেকে তাদের বিধায়কদের ভোপাল ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভোপালেও তাদের এক পাঁচ তারা হোটেলে রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ইস্তফা দেওয়া ৬ বিধায়কের আবেদন গ্রহণ করেছেন অধ্যক্ষ। যার জেরে মধ্যপ্রদেশের বিধানসভার সমীকরণ কিন্তু পাল্টে গিয়েছে পুরোপুরি। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস না বিজেপি, কে জয়ী হয়, সেই দিকে নজর সবার।

আস্থা ভোট নিয়ে কংগ্রেসের দোনামনা ভাব
এদিকে আস্থা ভোট নিয়ে কংগ্রেসের অলিন্দে দোনামনা ভাব স্পষ্ট। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথকে তাঁর ক্যাবিনেটের সদস্যরা জানান, রাজ্যপালের নির্দেশে আস্থা ভওট হতে পারে না। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে অসাংবধানিক। কারণ রাজ্যপাল বিধানসভাকে এভাবে নির্দেশ দিতে পারেন না। ক্যাবিনেট সদস্।রা কমলনাথকে জানান, এই বিষয়ে তাঁকেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে।

কী বলছেন কমলনাথ?
ফ্লোর টেস্ট নিয়ে কমলনাথকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, 'আমাকে রাজ্যপাল বলেছেন যাতে মধ্যপ্রদেশএর বিধানসভার কাজ মসৃণ ভাবে চলে। এরজন্য যা করনীয় তা আমি করব। আমি এই বিষয়ে সোমবার বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলব।' তবে আস্থা ভোট হবে কি না, তা তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেননি।

সিন্ধিয়া সমীকরণ
কংগ্রেস ছেড়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিজেপিতে যোগ দিতেই মনে করা হচ্ছিল যে কমলনাথের নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রদেশ সরকার চাপে পড়ে যাবে। তবে চিত্রটা পাল্টে যায় একটি বৈঠকের পর। আর এরপর থেকেই আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে কংগ্রেসের মধ্যে। হাত শিবিরে বিশ্বাস জাগে যে তারা সরকার বাঁচাতে সক্ষম হবে।

সিন্ধিয়া বিদায়ে মরিয়া কংগ্রেস
যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সপ্তাহের বুধবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে পৌঁছে পদ্মশিবিরে যোগ দেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। আর এরপরেই আরও বেকাদায় পড়ে মধ্যপ্রদেশের কমলানের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। এরপর সরকার বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠা কংগ্রেস সুপ্রিমকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক নাটক
মধ্যপ্রদেশের অন্তত ১৭ জন কংগ্রেস বিধায়ক বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে আছেন। তাঁদের শিবিরে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের পদত্যাগী ২২ জন বিধায়কের মধ্যে ১২ জন বিজেপিতে যেতে চান না। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, আমরা মহারাজের সঙ্গে এসেছি, কিন্তু আমরা বিজেপিতে যেতে চাই না। এর ফলে মধ্যপ্রদেশ অঙ্ক বদলাচ্ছে। জানা যায়, এই ১২ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের বাড়িতে বৈঠকে বসেন। আর এই বৈঠকের পরই পাল্টা চাপে পড়ে বিজেপি। এদিকে বেঙঅগালুরুতে থাকা বিধআয়কদের দাবি তাঁরা এখনও সেখানেই আছেন। যআ নিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। এখন দেখার কোন দল কোন সমীকরণের সাহায্যে মসনদ দখল করে।












Click it and Unblock the Notifications