ভুয়ো চিকিৎসক ও আর্থিক অনিয়ম, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে ইডি তদন্তে বড়সড় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও তার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকিকে ঘিরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি এর তদন্তে সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) এর পরিদর্শন ও অনুমোদন সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই জানতে পারত কোন কোন স্নাতকোত্তর (পিজি) মেডিক্যাল আসন অনুমোদন পাবে বা বাতিল হতে পারে। শুধু তাই নয়, পরিদর্শনের দিনক্ষণও নাকি আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, নিয়ম রক্ষার নামে পরিদর্শনের সময় কাগজে কলমে ভুয়ো চিকিৎসক ও ভুয়ো রোগী দেখিয়ে শর্ত পূরণ করা হতো।

এই সংক্রান্ত তথ্য ইডি ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন, দিল্লি পুলিশ ও আয়কর দপ্তর.সহ একাধিক সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
এই মামলাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে দিল্লির একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর। ইডি জানিয়েছে, আত্মঘাতী হামলাকারী উমর নবি আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়া আরও এক অভিযুক্ত মুজাম্মিল শাহীও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ইডির তদন্তে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের ছবিও সামনে এসেছে। অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছিল কারকুন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপারস নামের এক সংস্থাকে, যেখানে সিদ্দিকির ছেলে আফহাম আহমেদের মালিকানা ৪৯ শতাংশ, মেয়ে আফিয়ারও ৪৯ শতাংশ এবং বাকি ২ শতাংশ রয়েছে এক কর্মচারীর নামে।
একইভাবে হোস্টেল ক্যাটারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমলা এন্টারপ্রাইজেস এলএলপি কে, যেখানে সিদ্দিকির স্ত্রী উসমা আখতার ও ছেলে আফহাম উভয়েরই মালিকানা ৪৯ শতাংশ করে। পাশাপাশি সিদ্দিকির ভাইয়ের মালিকানাধীন স্টার ফুডস নামের একটি সংস্থাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পণ্য সরবরাহ করত।
ইডির দাবি, এই সমস্ত সংস্থা কার্যত জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকির নিয়ন্ত্রণেই ছিল, অথচ আয়কর রিটার্ন বা সরকারি নথিতে তা প্রকাশ করা হয়নি।
আরও যে অভিযোগগুলি উঠেছে
তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের তালিকায় রয়েছে শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধমূলক অর্থ সাদা করার অভিযোগ, দাতব্য তহবিলের অপব্যবহার ও জমি কেনাবেচায় অনিয়ম, এনএমসি,ইউজিসি,ও ন্যাক এর নিয়ম লঙ্ঘন, বিদেশে সম্পত্তি থাকার সম্ভাবনা ও পরিবারের সদস্যদের বিদেশে বসবাসের ইঙ্গিত।
তবে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় কাণ্ড এখন শুধু শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও আর্থিক দুর্নীতির এক জটিল তদন্তে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।












Click it and Unblock the Notifications