ইন্দিরা-রাজীব গান্ধীর উত্তরাধিকারকে অসম্মান! জাত শুমারি নিয়ে রাহুল গান্ধীকে নিশানা আনন্দ শর্মার
লোকসভা ভোটের মুখে কংগ্রেসে বড় বিভাজন। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা রাহুল গান্ধীর জাত শুমারির প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা করে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, কংগ্রেস কখনই জাত শুমারির রাজনীতিতে জড়িত ছিল না কিংবা বিষয়টি সমর্থন করেনি। ফলে এটি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
চিঠিতে আনন্দ শর্মা লিখেছেন, জাত শুমারিকে সমর্থন করা হলে ইন্দিরাজি ও রাজীবজির উত্তরাধিকারকে অসম্মান করা হবে। এব্যাপারে আনন্দ শর্মা ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধীর একটি জনপ্রিয় স্লোগান উদ্ধৃত করেছেন। যেখানে ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, না জাত, না পাত, হাতেই ছাপ পড়বে।

এছাড়া রাজীব গান্ধী ১৯৯০ সালে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে বলেছিলেন, দেশে যদি জাতকে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাহলে আমাদের সমস্যা আছে। সংসদীয় ও বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য জাতপাতকে ফ্যাক্টর করা হলে আমাদের সমস্যা আছে। দেশকে এইভাবে বিভক্ত হতে দেখতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
আনন্দ শর্মা চিঠিতে লিখেছেন, কংগ্রেস সবসময় জাতীয় গুরুত্বের ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও বিতর্ককে উৎসাহিত করেছে, সামাজিক ইস্যুতে নীতি প্রণয়ন করেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া সর্বদাই ইতিবাচক পদক্ষেপের একমাত্র নির্দেশক মাপকাঠি বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি।
তিনি আরও লিখেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে থেকা জাত শুমারি বেকারত্ব এবং সমাজের বৈষম্যের সমাধান করতে পারে না। এরকম একটি সংবেদনশীল বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন আনন্দ শর্মা। পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের উচিত জাতীয় ঐক্যমত্যের নির্মাতা হিসেবে তার ভূমিকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা।
Congress leader Anand Sharma writes to the party's national president Mallikarjun Kharge.
— ANI (@ANI) March 21, 2024
The letter reads, "...In my considered view, a Caste Census cannot be a panacea nor a solution for the unemployment and prevailing inequalities.."
The letter also reads, "...In my humble… pic.twitter.com/U0xUTNXpIF
প্রসঙ্গত রাহুল গান্ধী ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে জাত শুমারির দাবিকে নির্বাচনী ইস্যু তৈরি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাহুল গান্ধীর জিতনি আবাদি, উতনা হক স্লোগানকে পশ্চাদপসরণমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া দেশের পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় তিনি বেশ কয়েকবার জাত শুমারির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যে কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসসি, এসটি ও ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের থেকে বাড়াতে সংবিধান সংশোধন করা হবে। উল্লেখ করা প্রয়োজন কংগ্রেস-আরজেডির সঙ্গে জোট থাকার সময় নীতীশ কুমার বিহারে এবং কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক জাত শুমারি করেছে।
উল্লেখ করা প্রয়োজন আনন্দ শর্মা হলেন, সেই নেতাদের একজন, যিনি ২০২১ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর কাছে চিঠি লিখে দলের কাজে ও কাঠামোয় পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications