কার্যকারিতা থাকলেও ভারতে সরবরাহ নিয়ে একাধিক প্রতিবন্ধকতার সামনে ফাইজার ভ্যাকসিন
কার্যকারিতা থাকলেও ভারতে সরবরাহ নিয়ে একাধিক প্রতিবন্ধকতার সামনে ফাইজার ভ্যাকসিন
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন প্রার্থীদের শীর্ষ তালিকায় থাকা ফাইজার দাবি করেছে যে ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। কিন্তু এই ভ্যাকসিনের মূল্য প্রচুর এবং ভারতে এই ভ্যাকসিনের আসা বেশ কঠিন বলে মনে করছেন সিএমসির ভেলোরের অধ্যাপক, যিনি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত।

ফাইজার মূল্যবান ভারতে
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতকারে মেডিক্যাল বিজ্ঞানী ডাঃ গগনদীপ কাঙ্গ জানিয়েছেন যে ফাইজার করোনা ভ্যাকসিন হল এমআরএনএ ভ্যাকসিন। যদিও ফাইজারের তরফ থেকে এখনও তাদের ভ্যাকসিনের মূল্য কত হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি, কিন্তু গগনদীপ কঙ্গ বলেন, ‘ভারতের জন্য আরএনএ ভ্যাকসিন খুবই মূল্যবান।'

ভ্যাকসিনের মূল্য নির্ধারণ হয়নি
একদিকে যখন মডার্না জানিয়েছে যে তাদের করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের দাম তারা নির্ধারণ করেছে ৩৭ মার্কিন ডলার (২,৭৪৬ টাকা)। অন্যদিকে ফাইজার তাদের বিএনটি১৬২বি২ ভ্যাকসিনের মূল্য এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি। যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে যে তারা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক ফাইজারের সঙ্গে কথা বলতে চান, যাতে এটি ভারতে ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ করা যায়। এ প্রসঙ্গে ভেলোরের অধ্যাপক জানিয়েছেন যে ফাইজারের করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন দেশের প্রত্যেকটি কোণে পৌঁছে দেওয়া বেশ কঠিন বিষয়।

অতি–স্বল্প হিমঘরের ঠাণ্ডায় রাখা হয় ফাইজার ভ্যাকসিনকে
কিন্তু কেন? জানা গিয়েছে, ফাইজার করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত ঠাণ্ডা হিমঘরের প্রয়োজন রয়েছে, যা দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল, এমনকী শহরেও উপলব্ধ নয়। ফাইজারের করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন, যা নোভেল প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সিন্থেটিক এমআরএনএ ব্যবহার করা হয়। এই ভাইরাস সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৯৪ এফ)বা তার নীচে তাপমাত্রার প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্বের বড় শহরের হাসপাতালগুলিতেও এই ধরনের তাপমাত্রা যুক্ত হিমঘর উপলব্ধ নয়, যেখানে ভ্যাকসিন খুব কম তাপমাত্রায় থাকতে পারবে। আর সেই কারণেই ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিন ভারতের গ্রাম্য এলাকায় অথবা দরিদ্র দেশে পৌঁছে দেওয়া একপ্রকার চ্যালেঞ্জ। গগনদীপ কঙ্গ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে এ রকম কোনও পদ্ধতি উপলব্ধ নেই যেখানে ৭০ ডিগ্রিতে থাকা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।'
জন হপকিন্স সেন্টারের এক প্রবীণ অধ্যাপক জানিয়েছেন যে এই করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন সরবরাহের সবচেয়ে কঠিন দিক হতে চলেছে এই কোল্ড চেইন। আমেশ আদেলজা নামে এক গবেষক বলেন, ‘বড় শহরের হাসপাতালগুলিতেও অতি-স্বল্প তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন রাখার হিমঘর নেই তাই এই ভ্যাকসিন নিয়ে এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অনেক দেশই।' এমনকী আমেরিকার সবচেয়ে সম্মানীয় হাসপাতাল রোচেস্টারের মায়ো ক্লিনিকেও এই সুবিধা উপলব্ধ নয় বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় ওষুধ দোকানে সর্বদা উপলব্ধ হবে না
এর অর্থ এই যে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ৯০ শতাংশ কার্যকর এই ফাইজার ভ্যাকসিন যখন খুশি তখন স্থানীয় ওষুধের দোকানে সবসময় পাওয়া যাবে না। টুইটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও জানিয়েছেন যে প্রত্যেক ভারতীয় যাতে করোনা ভ্যাকসিন ফাইজার পেতে পারে তার জন্য সরকারকে উপায় বের করতে হবে।

কিভাবে পাঠানো হবে ফাইজার ভ্যাকসিন
ফাইজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শুকনো বরফ ব্যবহার করে হিমায়িত ফাইজারের ভ্যাকসিনকে বিমান ও স্থলপথে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এই ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তাবিত তাপমাত্রায় এটি ১০ দিন পর্যন্ত ঠিক থাকবে। ফাইজারের মুখপাত্র কিম বেঙ্কার জানিয়েছেন যে তাদের সংস্থা মার্কিন সরকার ও তাদের আধিকারিকদের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন অন্যান্য দেশে পাঠানো নিয়ে আলোচনা করছে। জানা গিয়েছে, করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন অতি-স্বল্প তাপমাত্রায় ছ'মাসের জন্য ফ্রিজারে থাকতে পারে অথবা ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পাঁচদিনের জন্য। এই ধরনের প্রিজ সব হাসপাতালেই উপলব্ধ রয়েছে।
{quiz_424}












Click it and Unblock the Notifications