Delhi Result 2025: দিল্লির সিংহাসনে পালাবদলের অপেক্ষা, হতাশাজনক ফলাফল থেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখলের পথে বিজেপি
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ২০২৪ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জোট সরকার তৈরি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরেই বিজেপি একের পর এক রাজ্য দখল করেছে। বিরোধী শিবিরের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে একাধিক রাজ্যের ক্ষমতা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে দিল্লির নামও।
গত কয়েক বছর ধরেই দিল্লির আশেপাশের রাজ্যগুলি বিজেপি দখলেই আসছিল। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। ২০২৪ সালে হরিয়ানাও গেরুয়া শিবিরের হাতে যায়, এর আগে ২০২৩ সালে মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানও দখল করে বিজেপি। শনিবার দিল্লি ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজধানী রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের ইঙ্গিত মিলছে।

প্রায় ৫০টি আসনের কাছাকাছিতে এগিয়ে আছে বিজেপি। এই প্রবণতা আর কয়েক ঘণ্টা থাকলেই দিল্লিতে ১৯৯৮ সালের পর ক্ষমতা দখল করে নেবে বিজেপি। দেশের প্রায়টি ২০টি রাজ্যে এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতায় থাকলেও দিল্লির ভোটে লজ্জাজনক ফল করছিল বিজেপি। ২০১৫ এবং ২০২০ সালের ভোটে দিল্লিতে মাত্র তিনটি এবং আটটি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। অন্যদিকে আপ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠা নিয়ে ক্ষমতাতে আসে। এবার পালা বদল হওয়া সময়ের অপেক্ষা।
দিল্লি বিধানসভা ভোটে বিজেপি জনতা দল ইউনাইটেড ও লোক জনশক্তি পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করেছে। এই দুটি দলকে বুরারি ও দেওলি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার র ক্ষমতা দখল করতে প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিল বিজেপি। তার ওপর দশ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পরে পার্টি আম আদমি পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াও।
দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আম আদমি পার্টির সুপ্রিম অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে। লিকার দুনীর্তির জন্য কেজরিওয়ালকে ৫ মাস জেলে কাটাতে হয়। বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছিল আপ। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ভোটারদের যেমন বদল হতে পারে তার আভাস কিন্তু পাওয়া যাচ্ছিল এক্সিট পোল থেকেই। ভোটের মেশিনে সেই ইঙ্গিতই প্রতিফলিত হচ্ছে।
দিল্লি দখল করতে পারলে বিজেপির একটি বিরাট জয় হবে কারণ রাজধানীতেও ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেইসঙ্গে ভারতের মানচিত্রে আরও একটি রাজ্যের রঙ গেরুয়া হবে। এই ভোটে কেজরি সরকারের দুনীর্তিকেই শুধু হাতিয়ার করেনি বিজেপি। একইসঙ্গে কেজরিওয়ালের শীসমহলে থাকাকেও প্রচারে ব্যবহার করে। এই ভোটে মোদীকে মুখ করে বিজেপি। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভোটে দিয়েছিল বিজেপি। যা তাদের ভোট টানতে সাহায্য করে।
আপ শিবিরের অভিযোগ একাধিক, উন্নয়নের কাজকর্মে উপরাজ্যপালের বাধা, কেন্দ্রের দ্বারা অফিসারদের পোস্টিংয়ের অধ্যাদেশ প্রভৃতি নিয়ে সরব হয়েছিল আপ। কিন্তু ভোটারদের মন যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা আপ বুঝতে পারেনি। গত সেপ্টেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন দিল্লিবাসী তাঁকে ভোটের মাধ্যমে ক্লিনচিট দিলেই তিনি ক্ষমতায় ফিরবেন। তবে কেজরির আবেদনকে নাকোচ করে দিতে চলেছেন।












Click it and Unblock the Notifications