কমছে করোনার প্রকোপ, মূলে 'মানব ব্যারিকেড', গবেষকদের নয়া তত্ত্বে আশার আলো
কমছে করোনার প্রকোপ, মূলে 'মানব ব্যারিকেড', গবেষকদের নয়া তত্ত্বে আশার আলো
দেশজুড়ে শুরু হয়েছে করোনা টিকাকরণ। এরই মধ্যে টিকা নেওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবকদের মৃত্যুর খবরও মিলেছে বেশ কিছু জায়গা থেকে। পাশাপাশি কোভিড শুরুর দিন থেকে দেশে হটস্পট বলে চিহ্নিত মহারাষ্ট্রে আবার বাড়ছে মারণব্যাধির প্রকোপ, একই তালিকায় উপরে উঠে আসছে কেরলের মত রাজ্যও। এমতাবস্থায় আশার বাণী শোনালেন করোনাবিদরা। ভারতের মত ঘনবসতিযুক্ত দেশে গোষ্ঠী প্রতিরোধ ক্ষমতা যেভাবে কোভিডের বিরুদ্ধে 'মানব ব্যারিকেড' তৈরি করেছে, তাই ব্যাখ্যা করলেন গবেষকরা।

প্রায় ৩০ কোটি ভারতীয়ের দেহে অ্যান্টিবডি
কেরল-মহারাষ্ট্রের মত রাজ্যে কোভিডের জোয়ার চোখে পড়লেও প্রায় ৩০ কোটি ভারতীয়য়ের শরীরে করোনা অ্যান্টিবডি প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি আগামী মার্চের মধ্যেই করোনার বিরুদ্ধে 'মানব ব্যারিকেড'-এর সফক হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারীবিশেষজ্ঞ ভ্রমর মুখার্জি। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে যেখানে প্রত্যহ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ, সেখানে বর্তমানে সংখ্যাটা ১০,০০০-এর কোটায় দাঁড়িয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলে উঠবে ভারত
অদূর ভবিষ্যতে করোনার দ্বিতীয় জোয়ার এলেও ভারত উতরে যাবে খুব সহজেই, এমন আশার বাণী শুনিয়েছেন ওয়াশিংটন ও দিল্লি নির্ভর এক গবেষণাকেন্দ্রের মহামারী বিশেষজ্ঞ রামানন লক্ষ্মীনারায়ণ। সূত্রের খবর, এক সাম্প্রতিক সরকারি সেরোলজিক্যাল সমীক্ষায় জানা গেছে প্রায় ২১.৫% ভারতীয়ের আক্রান্ত হওয়ার কথা। যদিও ৭ লক্ষ নাগরিকের উপর করা অন্য একটি বেসরকারি সমীক্ষার মতে, ভারতে কোভিড আক্রান্ত প্রায় ৫৫% নাগরিক! যদিও গোষ্ঠী প্রতিরোধের কথা ভেবে এখনই করোনাবিধি অমান্য করার ক্ষেত্রে সাফ 'না' করছেন গবেষক ও চিকিৎসকরা।

করোনা বিধি না মানাতেই কাল
মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেন চালু ও কেরলে বিদ্যালয়গুলি পুনরায় চালু করার জন্যই চড়চড়িয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা, এমনই মত স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। পাশাপাশি সংখ্যাবৃদ্ধির কারণ হিসেবে নাগরিকদের অবাধ্যতাকেও দায়ী করেছেন মহারাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রদীপ আওয়াতে। যদিও করোনার জোয়ারের রেশ যে আগের থেকে অনেকটাই কম, তা স্পষ্ট করেছেন ভ্রমর মুখার্জি।

কোভিড রুখে দিশা দেখাচ্ছে গ্রাম্য ভারত
ভারতের ১৩০ কোটি জনসংখ্যার তিনভাগের দুইভাগই বসবাস করেন গ্রামে। গ্রামের খোলামেলা পরিবেশের কারণেই নাকি বাধা পেয়েছে মারণব্যাধি, মহামারী বিশেষজ্ঞরা জানান এমনটাই। পাশাপাশি সঠিক আক্রান্ত ও সঠিক মৃত্যুসংখ্যার ক্ষেত্রে সরকারি গরমিলকেও নথিভুক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে মহারাষ্ট্র-কেরলে করোনার জোয়ার নিয়ে তেমন একটা চিন্তিত নন মহামারীবিশেষজ্ঞ ভ্রমর মুখার্জি। ভ্রমরের মতে, এমনিতেই গোষ্ঠী প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। এখন শুধু গণটিকাকরণ সম্পন্ন হলেই কেল্লাফতে!












Click it and Unblock the Notifications