সাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অশনি, আম্ফান না হলেও ইয়াসের পরিস্থিতি হতে পারে
সাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অশনি, আম্ফান না হলেও ইয়াসের পরিস্থিতি হতে পারে
সাগর উত্তাল হয়ে উঠছে ঘূর্ণিঝড় অশনির চোখ রাঙানিতে। যত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, ততই সমুদ্রের চেহারা বদলে যাচ্ছে। ভয়াল হয়ে উঠছে সমুদ্র। আবহবিদরা মনে করছেন, ঘূর্ণিঝড় কোনও উপকূলে আছড়ে না পড়লেও সমুদ্র ফুঁসে উঠবে। তার জেরে ফুলে উঠতে পারে সমুদ্র, হতে পারে জলোচ্ছ্বাস।

ধেয়ে আসছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে
ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের তরফে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সাইক্লোন অশনি চোখ রাঙাচ্ছে। সেইসঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রভাব বিস্তারও। অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পরিণত হয়ে অশনি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধেয়ে আসছে। বর্তমানে গতিও বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়টি ধেয়ে আসছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে।

সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়
সাগরের বুকে গতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে ঘূর্ণিঝড় অশনি। তখনই সর্বোচ্চ গতিবেগে বইতে থাকবে ঝড়। উপকূলবর্তী অঞ্চলে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে। এরপরই ঘূর্ণিঝড় ঘুরে যাবে উত্তরে অর্থাৎ বাংলার দিকে।

বাংলার দিকে বাঁক, স্থলভাগের সমান্তরাল গতিপথ
আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে না পড়ে বাংলার দিকে বাঁক নিয়ে তা ওড়িশা উপকূলের পাশ বরাবর এগোতে থাকবে। তবে বাংলাতেও ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা নেই। উত্তর-পূর্ব দিকে টার্ন নিয়ে স্থলভাগের সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাবে সমুদ্র বরাবর। এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠবে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে মূলত বৃষ্টি চলবে ৯ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত।

উপকূলকে রক্ষা করার যাবতীয় বন্দোবস্ত সারা
অশনি শক্তি বাড়ানোর পরই সমুদ্র ফুঁসতে শুরু করেছে। ঢেউ বেড়েছে আগের থেকে। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে সমুদ্রে নামা নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও সমুদ্র উত্তাল হয়ে গিয়েছে। ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশেও হাইঅ্যালার্ট রয়েছে। প্রশাসনের তরফে সমুগ্র উপকূলকে রক্ষা করার যাবতীয় বন্দোবস্ত সেরে ফেলা হয়েছে।

সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়বে উপকূলে
আম্ফান যেভাবে বাংলার বুকে আছড়ে পড়েছিল, এবার অশনি হয়তো সেরকম প্রভাব ফেলবে না। কারণ সরাসরি ল্যান্ডফল হবে না ঘূর্ণিঝড় অশনি। তবে দুর্যোগ হবে অশনির কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অশনি সরাসরি প্রভাব না ফেললেও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়বে উপকূলে। উপকূলকে প্লাবিত করবে।

যেমন ইয়াসের সরাসরি প্রভাব পড়েনি, কিন্তু...
বিশেষজ্ঞদের মতে ইয়াসের স্মৃতি এখনও টাটকা। ইয়াসের সরাসরি প্রভাব পড়েনি বাংলায়। কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে এতটাই সমুদ্রের জলস্ফীতি হয়েছিল যে, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল উপকূলবর্তী অঞ্চলে। এমনকী নদী তীরবর্তী অঞ্চলেও বাঁধ ছাপিয়ে জল ঢুকে পড়েছিল স্থলভাগে। সেই কারণেই এবার আগে থেকে সাবধানী প্রশাসন।

পুরীর উপকূলের কাছ দিয়ে বয়ে যাবে অশনি
আইএমডি জানিয়েছে, ওড়িশায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। কেননা পুরীর উপকূলের সবথেকে কাছ দিয়ে বয়ে যাবে ঘূর্ণিঝড় অশনি। আবহবিদরা জানিয়েছেন পুরীর উপকূলের ১০০ কিলোমিটার কাছ দিয়ে বয়ে যাবে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবে ওড়িশার একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে।












Click it and Unblock the Notifications