উৎসবের মরশুমের মাঝে দেশে করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় কমতি, পরিসংখ্য়ান একনজরে
সমীক্ষায় জানানো হয়েছিল যে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যেই সম্ভবত দেশে আছড়ে পড়তে পারে করোনা ঝড়। সেই মতো করোনা পরিস্থিতি ঘিরে রীতিমতো আতঙ্ক গ্রাস করে গোটা দেশকে। এরই মাঝে ডেল্টা ও ল্যাম্বডার মতো ভ্যারিয়েন্টের ত্রাস নজরে পড়তে শুরু করে বিশ্বজুড়ে। সেই জায়গা থেকে গত কয়েকদিনে দেশে করোনার দেরে দৈনিক আক্রান্ত ৪০ হাজার পার করে যায়। ৪০ হাজারের আশপাশে পরবর্তীকালে করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া ঘুরপাক খেতে থাকে। এরপরই দেখা যায়, গণেশ চতুর্থীর মরশুমে। করোনার জেরে দেশে আক্রান্তের সংখ্যার দৈনিক হারে কমতি দেখা গিয়েছে। এদিন করোনার দৈনিক আক্রান্ত ২৮,৫৯১ তে গিয়ে পৌঁছেছে।

করোনা পরিসংখ্যান
মহারাষ্ট্রে এই মুহূর্তে গণেশ চতুর্থীর উৎসব ঘিরে প্রবল উৎসাহ উত্তেজনা জারি রয়েছে। তারই মাঝে করোনার জেরে দেশে পরিস্থিতি কোনদিকে যায়, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। করোনা পরিসংখ্যান ঘিরে এদিন খানিকটা স্বস্তির বার্তা এসেছে । শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনার জেরে দেশে ৩৪,৮৪৮ জন সুস্থ হয়ে করোনা কাটিয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, করোনার জেরে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৮,৫৯১ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে করোনার জেরে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ৩৩৮ জন।

করোনার জেরে মোট আক্রান্ত
করোনার জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৩২,৩৬,৯২১ জন। করোনার ফলে অ্যাক্টিভ কেস ৩,৮৪,৯২১ হয়েছে এদিন। দেশে মোট সুস্থতার সংখ্যা ৩,২৪,০৯,৩৪৫ জন। মৃতের সংখ্যা দেশে মোট ৪,৪২,৬৫৫ জন। দেশে করোনার জেরে রীতিমতো তোলপাড় পরিস্থিতি। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনার ফলে একাধিক বিধি লাগু করেও দেশ পর পর দুটি করোনা স্রোতে কার্যত বিধ্বস্ত পরিস্থিতি দেখেছে। এরপর ফের একবার নতুন করে করোনার তৃতীয় স্রোতের আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় দেশে এদিন আসা পরিসংখ্য়ান রীতিমতো তাৎপর্যবাহী বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের বড় বার্তা কোভ্যাক্সিন নিয়ে
কোভ্যাক্সিন নিয়ে এদিন কেন্দ্রের তরফে বড় বার্তা আসে। দিল্লির তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁরা করোনা থেকে সেরে উঠছেন, তাঁরা যদি কোভ্যাক্সিন নেন, তাহলে তা র ২ টি ডোজ নিতে হবে। ইতিমধ্যেই নিয়ম অনুযায়ী, করোনাজয়ীরা রোগ থেকে সেরে ওঠার ৩ মাস পরেই একমাত্র ভ্যাকসিন পাবেন। সেই জায়গা থেকে খানিকটা উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই। কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে যে, কোভ্যাক্সিন যাঁরা নিচ্ছেন তাঁদের সকলকেই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি ও সর্বমোট পরিসংখ্যান
এদিকে, গতকালের রিপোর্টে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যে পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩,৩৭৬ জন। দেশে করোনা সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৩০৮ জন। দেশে এখন অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৩,৯১,৫১৯ জন। এদিকে, এমন অক পরিস্থিতির মাঝে ৩৩ হাজার থেকে নেমে এদিন করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজারে নেমে এসেছে। ফলে খানিকটা স্বস্তি মিলেছে করোনা পরিসংখ্যান ঘিরে। তবে এবার ভ্যাকসিনেশন নিয়ে আলাদা গুরুত্ব সহকারে একাধিক পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। তেমনই ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।

করোনা ভ্যাকসিন
এদিকে সারা দেশে, করোনা ভ্যাকসিনেশন নিয়ে আরও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে চাইছে ভারত। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ভ্য়াকসিনেশন হয়েছে ৭২,৮৬,৮৮৩ জনের। মোট ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৭৩,৮২,০৭,৩৭৮ জন। এই পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ আসবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর খুব সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যেই সম্ভবত সরকার বুস্টার ডোজ সম্পর্কে ঘোষণা করে দিতে পারে। এদিকে বহু ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে অন্তত পক্ষে ২০ শতাংশ ভ্যাকসিনে অ্যান্টিবডি নেই বলে জানা গিয়েছে। এরপর থেকেই উদ্বেগ চরমে উঠতে শুরু করে দেয়। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বার্তার পর এদিন করোনায় মৃতদের ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র। করোনায় মৃতদের ডেথ সার্টিফিকেটে কী কী বিষয়ের উল্লেখ থাকবে তা নিয়ে বহুদিন ধরেই মামলা চলছিল। ৩ সেপ্টেম্বরই এই নিয়ে নির্দেশ দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই ১০ দিনের মধ্যে এই ইস্যুতে নয়া গাইডলাইন জারি করল কেন্দ্র। মডিউলার টেস্ট, ব়্যাপিড-অ্যান্টিজেন পরীক্ষা অথবা রাসায়নিকভাবে করা পরীক্ষা ছাড়াও আরটি পিসিআরএ যাঁদের কোভিড ধরা পড়েছে, তাঁদেরই একমাত্র করোনায় মৃত বলে নির্ধারিত করা যাবে।












Click it and Unblock the Notifications