হরিয়ানার পুরসভা নির্বাচনেও মুখ থুবড়ে পড়ল কংগ্রেস, ১০টির মধ্যে ৯টি আসনেই জয়ী বিজেপি
হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত পুরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি ১০টির মধ্যে ৯টি পদে জয়লাভ করেছে, যা কংগ্রেসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, গুরুগ্রাম ও রোহতকের মত এলাকায়, যা কংগ্রেস নেতা ভূপিন্দর হুডার শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত হত, বিজেপি সেখানেও সহজেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী নেতা ড. ইন্দ্রজিৎ যাদব, যিনি মানেসার আসন জয় করেছেন।

বিজেপির বিশাল জয়ের পর হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি বলেন, "জনগণ 'ট্রিপল-ইঞ্জিন' সরকারের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'বিকশিত ভারত' ও 'উন্নত ভারত' গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে"।
বিজেপির জয় প্রসঙ্গে হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী মহিপাল ধান্ডা বলেন, "এই ফলাফল জনতার পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে এবং এটি রাজ্যের উন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত দেয়"।
গত বিধানসভা নির্বাচনে ভালো অবস্থানে থেকেও পরাজিত হয়েছিল কংগ্রেস। এবার কংগ্রেস বেশ কয়েকটি আসনে লড়লেও, গুরুগ্রামে সরাসরি বিজেপির মুখোমুখি হয় তারা। কিন্তু ফলাফল ছিল একপেশে-বিজেপির রাজ রানী কংগ্রেসের সীমা পাহুজাকে এক লক্ষেরও বেশি ভোটে হারান।
রোহতকের পুরসভা নির্বাচনেও বিজেপির রাম অবতার বিশাল ব্যবধানে জয় পান, কংগ্রেসের সুরজমল কিলোই ৪৫,০০০ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন। এই পরাজয় কংগ্রেসের জন্য বিশেষত গুরুগ্রাম ও রোহতকের মত জায়গায় বড় ধাক্কা, যেখানে ভূপিন্দর হুডার শক্তিশালী প্রভাব ছিল, সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়েছে কংগ্রেস।
এদিকে, আম্বালায় বিজেপির শৈলজা সচদেব কংগ্রেসের আমিশা চাওলাকে ২০,৪৮৭ ভোটে পরাজিত করেছেন। ফরিদাবাদে বিজেপির পারভীন জোশী কংগ্রেসের লতা রানিকে হারিয়েছেন। হিসারে বিজেপির প্রবীণ পপলি কংগ্রেসের কৃষ্ণ সিংলাকে পরাজিত করেছেন। কর্ণালে বিজেপির রেণু বালা গুপ্তা কংগ্রেসের মনোজ ওয়াধওয়াকে পরাজিত করেছেন। পানিপতে বিজেপির কোমল সাইনি কংগ্রেসের সবিতা গর্গকে পরাজিত করেছেন। সোনিপাতে প্রবীণ বিজেপি নেতা রাজীব জৈন কংগ্রেসের কোমল দেওয়ানকে হারিয়েছেন। যমুনানগরে বিজেপির সুমন কংগ্রেসের কীর্ণা দেবীকে পরাজিত করেছেন।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪১ শতাংশ, যা আগের বিধানসভা নির্বাচনের ৬৮ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ২৬ জন ওয়ার্ড সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে, কংগ্রেসের জন্য এটি দ্বিতীয় টানা বড় পরাজয়, যা দলটির ভরসা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল আগামী দিনেও বিজেপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে, তবে কংগ্রেসকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে তবেই আগামী দিনে তারা টিকে থাকতে পারবেন।












Click it and Unblock the Notifications