কংগ্রেসের মাস্টারস্ট্রোক নাকি সিধুর সুপ্ত বাসনা? চরণজিৎ চালেই নিজের রাস্তা পাকা করছেন সিধু?
কংগ্রেসের মাস্টারস্ট্রোক নাকি সিধুর সুপ্ত বাসনা? চরণজিত চালেই নিজের রাস্তা পাকা করছেন সিধু?
গতকালই শেষবেলার নাটকে বড় চমক দেখায় পাঞ্জাব কংগ্রেস। একাধিক নাম উঠে এলেও, এমনকী সুখজিন্দরে সিলমোহর পড়ে গেলেও শেষ ভরসা হিসাবে উঠে আসে সিধু ঘনিষ্ট চরণজিৎ সিং চান্নির নাম। চূড়ান্ত ঘোষণা করেন পাঞ্জাব কংগ্রেসের ইনচার্জ হরিশ রাওয়াত। ইতিমধ্যেই সোমবার সকাল ১১টায় পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু কেন অন্য নেতাদের সরিয়ে চান্নিকেই বাছলেন সিধু?

মাস্টারস্ট্রোক কংগ্রেসের
এদিকে অমরিন্দর সিংকে সরিয়ে দলিত মুখ্যমন্ত্রীকে পাঞ্জাবের মসনদে বসিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে গান্ধী পরিবার, কার্যত একথা মানছেন সকলেই। কারণ আর পাঁচ মাস পড়েই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে পাঞ্জাবে। এদিকে বর্তমানে পাঞ্জাবের মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশই দলিত। আর এই রসায়নকে মাথায় রেখে চরণজিৎকে সামনে রেখে বাজিমাত করতে চাইছে কংগ্রেস। এদিকে ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাব বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছেন চান্নি। ফলস্বরূপ গোটা রাজ্যেই তার একটা বড় প্রভাবও রয়েছে।

চরণজিৎক চালেই বাজিমাত?
অন্যদিকে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সরকার গঠন করে তাঁকে মন্ত্রীও করেছিলেন। কিন্তু চান্নি বরাবরই সিধু ক্যাম্পের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসাবেই উঠে এসেছেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য এর আগে বারবার শোনা যায় প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান সুনীল জাখরের নাম। এমনকী শেষবেলায় একপ্রকার ঠিকও হয়ে যায় সুখজিন্দর রান্ধাবার নাম। কিন্তু দুই নামেই প্রবল আপত্তি ছিল ক্যাপ্টেন শিবিরের। কিন্তু সরাসরি দলিত মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ চান্নির বিরোধিতা করবে না অমরিন্দর গোষ্ঠী একথা আগে থেকেই জানত সিধু শিবির।

বড় প্রশ্ন তুলছেন সুনীল জাখর
উল্টে ঘুরিয়ে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে ভোট বাক্সে। সহজ ভাবে দেখতে গেলে চান্নি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসলেও আসাল চাবিকাঠি থাকছে নভজ্যোত সিং সিধুর হাতেই। এদিকে আগামীতে পাঞ্জাব কংগ্রেসের ভোট পরিচালনা নিয়ে তৈরি হচ্ছে একাধিক বিতর্ক। এমনকী খোদ সিধু শিবিরের মধ্যেও তৈরি হয়েছে জটলা। এদিকে সম্প্রতি এক ঘোষণায় হরিশ রাওাতকে বলতে শোনা যায় আগামী সিধুর নেতৃত্বে ভোটে লড়বে কংগ্রেস। আর এখানেই নতুন প্রশ্ন তুলছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সুনীল জাখর।

সিধুর সুপ্ত বাসনাতেই নয়া চাল ?
সুনীল জাখরের প্রশ্ন হরিশ রাওয়াত কেন বলছেন যে সিধুর নেতৃত্বে ভোটে লড়বে দল? এই সিদ্ধান্তে কী ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হচ্ছে না? সঙ্কটময় সময়ে চরণজিৎকে মুখ্যমন্ত্রী করে কী তাঁর কর্তৃত্বকে খাটো করা হচ্ছে না? এদিকে অনেকেই বলছেন চরণজিৎকে মুখ্যমন্ত্রী করা আদপে একটা বড় চাল সিধুর। দলীয় ও শিবিরগত রোষের মোকাবিলা করতেই এই নয়া ব্যবস্থা। কারণ আগামীতে পাঞ্জাবে কংগ্রেস জিতলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা রয়েচে সিঁধুর। আর সেই ঘুঁটি সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এখন থেকেই।












Click it and Unblock the Notifications