বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষা করতে সংশোধন করা হোক CAA, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সওয়াল প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতার
কুমিল্লায় দুর্গা পুজোর প্যান্ডেলে কোরানের অবমাননার অভিযোগ, আর তার পরেই বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা। পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) হুঁশিয়ারিতেও কান দিচ্ছে না হামলাকারীরা। যার জেরে উ
কুমিল্লায় দুর্গা পুজোর প্যান্ডেলে কোরানের অবমাননার অভিযোগ, আর তার পরেই বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা। পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) হুঁশিয়ারিতেও কান দিচ্ছে না হামলাকারীরা। যার জেরে উদ্বেগ বাড়ছে এপার বাংলায় থাকা তাঁদের আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে। এরই মধ্যে অবশ্য আক্রান্ত মানুষদের জন্য সিএএ (CAA) সংশোধনের দাবি তুলেছেন প্রভাবশালী কংগ্রেস (Congress) নেতা।

বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষা করতে সংশোধন করা হোক সিএএ
মুম্বইয়ের কংগ্রেস নেতা মিলিন্দ দেওরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষা করতে সিএএ সংশোধন করা হোক। কেননা সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় গত একসপ্তাহের বেশি সময় ধরে আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
তিনি টুইট করে বলেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ যথেষ্টই ভয়ের। সেই কারণে সিএএ সংশোধন করা হোক। যাঁরা ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসে আশ্রয় নেবে, তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ভারতীয় মুসলিমদের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও বন্ধ হোক।
প্রসঙ্গত ১৯৫৫ সালের আইন সংশোধন করে ২০১৯ সালে বলা হয় ২০১৪ সালের ৩১-এ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়া যাঁরা ধর্মীয় কারণে এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

বিজেপির সিএএ সওয়াল
যদিও বাংলাদেশের ঘটনাবলী নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে সিএএ নিয়ে সওয়াল করা হয়েছে। গেরুয়া শিবির বলছে, বাংলাদেশের হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে পদদলিত করা হচ্ছে। ফলে এখানেই সিএএ-এর গুরুত্ব উঠে আসছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা বিজেপির
বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য টুইট করে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ-র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি চুপ। যা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের আশঙ্কার মধ্যে রেখেছে। কেননা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শাসনে তারা একপেশো হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেছেন, দুধেল গাইরা ক্ষেপে যাবে, তাই চুপ করে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি
উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে রাজ্যের অনেক জেলাই বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী। এবং সীমান্তের ওপারে হিংসার ঘটনা ঘটছে। যা নিয়ে বিভিন্ন জেলাপ্রশাসনকে সতর্ক করেছে নবান্ন। সব জেলার পুলিশ সুপারদের এব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও এই রাজ্যে এখন উৎসবের মরশুম রয়েছে। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ গণ্ডগোল না করতে পারে, তার জন্যও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা
কুমিল্লার পুজো মণ্ডপে গণেশের পায়ের কাছে কোরান রেখে দেওয়া। আর তারপরেই সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার পরে হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। বিভিন্ন জেলায় মন্দির এবং দুর্গামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় এখনও পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নোয়াখালিতে ইসকনের মন্দিরে যেমন হামলার ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে রংপুরে মৎস্যজীবীদের গ্রামে রাতের অন্ধকারে মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা কুমিল্লার ঘটনার পিছনে সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়, ষড়যন্ত্রের কথাই উল্লেখ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications