প্রিয়াঙ্কার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ব্যর্থ, গেরুয়া ঝড়ে উত্তরপ্রদেশে নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস
প্রিয়াঙ্কার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ব্যর্থ, গেরুয়া ঝড়ে উত্তরপ্রদেশে নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস
উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে দলের বৈতরণী পার করতে গিয়ে কংগ্রেসকে ডুবিয়ে ছাড়লেন প্রিয়াঙ্কা। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভোটে লড়ে ২০১৭ সালে সাতটি আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। এবার প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে লড়ে আরও কমজোরি হল তারা। একেবারে তলানিতে নেমে গেল কংগ্রেস।

উত্তরপ্রদেশে প্রায় অস্তিত্ব হারানোর পথে কংগ্রেস
২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনের মুখে রাজনীতিতে নেমেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তারপর ধীরে ধীরে উত্তরপ্রদেশে দলের রাশ তুলে নিয়েছিলেন নিজের হাতে। কংগ্রেসও আশাবাদী ছিল প্রিয়াঙ্কার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে কংগ্রেস। কিন্তু ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখাল, কংগ্রেসকে উত্তরপ্রদেশের মানুষ পরিত্যাগ করেছে। উত্তরপ্রদেশে প্রায় অস্তিত্ব হারানোর পথে কংগ্রেস।

কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবন দিতে ব্যর্থ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
উত্তরপ্রদেশে সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের পারফরম্যান্স পড়তির দিকে, শেষ ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। তারপর থেকে উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, বিজেপির মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। কিন্তু কংগ্রেস ৫০-এর উপরে উঠতে পারেনি কখনও। এবারও তারা যে সরকার গড়ার মতো জায়গায় যাবে, তা নয়। কিন্তু কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবন দেওয়ার টার্গেট ছিল প্রিয়াঙ্কার। কিন্তু সেই কাজে ব্যর্থ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে
২০১৭ সালের ভোটে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস লড়েছিল সমাজবাদী পার্টি ও বহগুজন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট করে। সেবার কংগ্রেস শতাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েও সাতটির বেশি আসন পায়নি। এবার কংগ্রেস এককভাবে লড়ে মাত্র দুটি আসন ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে। অর্থাৎ কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে।

উত্তরপ্রদেশের আমেঠি ও রায়বরেলিতে হার কংগ্রেসের
রাজনৈতিক মহল মনে করেছিল, উত্তরপ্রদেশের আমেঠি ও রায়বরেলিতে অন্তত কিছু আসনে জয় পাবে কংগ্রেস। কিন্তু সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কেন্দ্রেও কংগ্রেসের জয় প্রায় অধরাই থাকল। সব মিলিয়ে মাত্র দুটি আসনে তারা অগ্রগমন ধরে রাখতে পেরেছে। বাকি আসনে হারের মুখ দেখতে হয়েছে কংগ্রেসকে। দুই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১৪টি বিধানসভাতেও খুবই খারাপ ফল করল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস।

উত্তরপ্রদেশ মাটি কামড়ে পড়ে থেকেও হার প্রিয়াঙ্কার
এর ফলে আসন্ন ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তাঁরা নিজদের গড় রক্ষা করতে বা উদ্ধার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যায়। এবারের ফলে স্পষ্ট কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ২০১৯-এর পর থেকে উত্তরপ্রদেশ মাটি কামড়ে পড়ে থেকেও কোনও লাভ করতে পারলেন প্রিয়াঙ্কা।

‘ম্যায় লড়কি হুঁ, লড় শকতি হুঁ’ স্লোগান ডাহা ফেল
কংগ্রেসকে উত্তরণের পথ তো দেখাতে পারলেনই না। নিজের নামটাও ডোবালেন। অথচ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কিন্তু চেষ্টার কসুর করেননি। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন সুযোগ পেলেই। কোনও সুযোগ তিনি হাতছাড়া করেননি। মানুষ সমস্যায় পড়লেই ছুটে গিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যে উন্নাও হোক বা হাথরস, কিংবা গোরখপুর হোক বা লখিমপুর, মহিলাদের নিরাপত্তাকে হাতিয়ার করে গর্জে উঠেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু নিট ফল জিরো। তাঁর 'ম্যায় লড়কি হুঁ, লড় শকতি হুঁ' স্লোগান ডাহা ফেল।












Click it and Unblock the Notifications