পিকে বনাম এসকে এবার জাতীয় রাজনীতিতে! মিশন ২৪-এ কংগ্রেসের নয়া ‘তাস’ কে জানুন
পিকে বনাম এসকে এবার জাতীয় রাজনীতিতে! মিশন ২৪-এ কংগ্রেসের নয়া ‘তাস’ কে জানুন
২০২৪-এর আগে ঘন ঘন বদল ঘটছে সমীকরণের। কংগ্রেসে প্রশান্ত কিশোরের 'এন্ট্রি' নিয়ে কম নাটক হয়নি, সেই সমীকরণ ম্লান করে কংগ্রেস আবির্ভাব হল আর এক তরুণ ভোট কৌশলীর। একসময়ে তিনি ছিলেন প্রশান্ত কিশোরের সহযোগী। এবার তিনি প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে রণকৌশল সাজাবেন। কে তিনি, যিনি জাতীয় রাজনীতিতে এতবড় চ্যালেঞ্জ নিলেন!

পিকের সহযোগীর উপর ভরসা কংগ্রেসের
বিজেপির তো থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক রয়েইছে। এতদিন কংগ্রেসকে সেভাবে দেখা যায়নি ভোট কৌশলীর উপর নির্ভর করতে। রাজ্যগতভাবে কয়েকবার সে চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এবার মিশন ২৪-এ ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের প্রচার পরিকল্পনার উপর ভরসা করতে চেয়েছিল একাংশ। তা শেষপর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রশান্ত কিশোরের এককালের সহযোগীর উপর ভরসা রাখল কংগ্রেস।

লড়াই এবার পিকে বনাম এসকে-র
স্বাভাবিকভাবেই এবার জাতীয় রাজনীতিতে লড়াই হতে চলেছে পিকে বনাম এসকে-র। এসকে, যার পুরো নাম সুনীল কানুগোলু। বয়স এখনও ৪০-এর নীচে। প্রশান্ত কিশোর বা পিকের প্রাক্তন সহযোগী তিনি। তবে চারিত্রিক দিক থেকে উভয়েই আলাদা প্রকৃতির। একজন চান প্রচারের মগডালে থাকতে, অপর জন প্রচার বিমুখ। গোপনে কাজ করে যেতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন।

পিকের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে যেতেই
প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা ভেস্তে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তাই আগাম বিকল্প ভেবে রেখেছিলেন রাহুল গান্ধী। প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেস বিমুখ হতেই অপর এক পেশাদার কৌশলীকে সামনে আনা হল। রাহুল-সোনিয়া এবার তাঁদের তাস হিসেবে আসরে নামালেন ভোট কৌশলী সুনীল কানুগোলুকে। প্রশান্ত কিশোরের একদা সহযোগীকে কংগ্রেস তাঁদের ২০২৪-এর টিমে নিয়োগ করল।

কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স গ্রুপে এসকে
সম্প্রতি ২৪-এর লড়াইয়ে কংগ্রেস একটি প্যানেল তৈরি করেছে। কংগ্রেসের এই পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স গ্রুপে কংগ্রেসের তাবড় নেতাদের সঙ্গে রাখা হয়েছে তরুণ তুর্কি ভোট কৌশলী সুনীল কানুগোলুকে। তিনি কংগ্রেসের হয়ে প্রচার পরিকল্পনা ও ভোট-স্ট্র্যাটেজি নিরূপণ করবেন। পরামর্শ দেবেন সোনিয়া-রাহুল-চিদম্বরম থেকে শুরু করে গুলাম নবি আজাদ-আনন্দ শর্মাদের।

প্রশান্ত কিশোর পরিচিত নাম জাতীয় রাজনীতিতে
প্রশান্ত কিশোর জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত নাম। ২০১২ সাল থেকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাফল্য সর্বজনবিদিত। তিনি একার দক্ষতায় অনেক রাজ্যে সাফল্য এনে দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে। বিজেপি থেকে শুরু করে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, জেডিইউ, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি-সহ বহু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি সফল।

পিকের প্রতিদ্বন্দ্বী কে এই সুনীল কানুগোলু
এবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে আবির্ভুত হতে চলেছেন সুনীল কানুগোলু। কে এই সুনীল কানুগোলু, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে এবার। প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভোট ময়দানে অবতীর্ণ হচ্ছেন যিনি, তাঁকে নিয়ে তো কৌতুহল থাকবেই। এই সুনীল কানুগোলু একটা সময় বিজেপির নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি টিম 'অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস' তথা এবিএমের প্রধান ছিলেন। তিনি বিজেপির সংসর্গ ত্যাগ করে কংগ্রেসের হয়ে এবার কৌশল নিরূপণ করবেন।

বয়সে নবীন অভিজ্ঞতার প্রবীন, তবে ভিন্ন প্রকৃতির
বর্তমানে সুনীল কানুগোলু ছিলেন মাইন্ডশেয়ার অ্যানালিক্সের প্রধান। কর্নাটকের বেল্লারির ছেলে সুনীল। পড়াশোনা নিজেরে রাজ্যেই। বয়সে নবীন হলে কী হবে, তিনি ইতিমধ্যেই প্রায় ১২টি ভোটে কৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন প্রশান্ত কিশোরের সহযোগী হিসেবেও। কিন্তু দু-জনে একেবারে ভিন্ন প্রকৃতির। এবার তাঁরা লড়বেন নিজের নিজের মিশন সাকসেসের জন্য।

প্রশান্ত কিশোর বনাম সুনীল কানুগোলু, ফারাক কোথায়
প্রশান্ত কিশোর বনাম সুনীল কানুগোলু বা পিকে বনাম এসকে হওয়ার আগে তাঁদের দু-জনের মধ্যে কোথায় মিল, কোথায় ফারাক তার একটু খোঁজখবর নেওয়া দরকার। দু-জনে একই সঙ্গে কাজ করেছেন আবার আলাদাও হয়ে গিয়েছেন। এখন তাঁরা কাজ করেন পুরোপুরি ভিন্ন দৃষ্টিকোণে। যেমন প্রশান্ত কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। কিন্তু সুনীল কানুগোলু একেবারেই সোশ্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডলি নন।

মেঘনাদের মতো মেঘের আড়ালে থাকতে ভালোবাসেন
তারপর প্রশান্ত কিশোর নিজে প্রচারে থাকতে ভালোবাসেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব নিবিড়। আবার যে দলের হয়ে তিনি প্রচার পরিকল্পনা করেন, সেই দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তিনি নিজের কৃতিত্ব নিতে ভালোবাসেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিন্তাভাবনা সুনীল কানুগোলুর। সুনীল কানুগোলু বা এসকে ভালোবাসেন আড়ালে থেকে ঘূঁটি সাজাতে। মেঘনাদের মতো মেঘের আড়ালে থেকে লড়াইয়ে তিনি পটু। সোশ্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডলি তো নন, মিডিয়া ফ্রেন্ডলিও নন।

কৃতিত্বের প্রশ্ন ভোট-কৌশলী হিসেবে ভিন্ন মত
সুনীল কানুগোলু সাফল্যের কৃতিত্ব নিজে নিতে চান না। তিনি রাজনৈতিক দলকেই সেই কৃতিত্ব দিতে চান। তিনি মনে করেন, কৌশল নির্ধারণের ফলে সাফল্যের কৃতিত্ব পেশাদার কৌশলীদের নয়। কৃতিত্বের অধিকারী তাঁদের ক্লায়েন্টরা অর্থাৎ যে দলের হয়ে তিনি কাজ করছেন তাঁদের। কিন্তু প্রশান্ত কিশোর ক্রেডিট নিতে বেশ পছন্দ করেন। তা তৃণমূলের ভোট-কৌশলী হিসেবে একাধিকবার প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

সুনীল কানুগোলু ও পেশাদারিত্ব ও অধিকার
কিন্তু কেন সুনীল কানুগোলু মনে করেন, পেশাদার কৌশলীরা কৃতিত্বের অধিকারী নন? আসলে কানুগোলু কাজ করেছেন ম্যাকেনজির মতো প্রতিষ্ঠানে। সেখানে পেশাদারদের প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য বা মতামত জানানোর অধিকার ছিল না। সেই অধিকার ক্লায়েন্টদের দেওয়া হত। সেইমতো সুনীল কানুগোলুও তাঁর ক্লায়েন্ট কোনও রাজনৈতিক দল হলে, তাঁদের দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

মিশন ২৪-এর লক্ষ্যে কংগ্রেসের মাস্টারস্ট্রোক
এখানে উল্লেখ্য, প্রশান্ত কিশোরের আগে সুনীল কানুগোলু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন। ম্যাকেনজির জরথে তিনি একটি ডেটা অ্যানালিটিক্সের প্রেজেন্টেশান দেওয়ার পর মোদী তাঁরে বিজেপির স্ট্র্যাটেজি টিমে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তারপর প্রশান্ত কিশোরের এন্ট্রি। এই অবস্থায় সুনীল কানুগোলুকে কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স গ্রুপে অন্তর্ভুক্তিকরণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মিশন ২৪-এর লক্ষ্যে।












Click it and Unblock the Notifications