Congress: স্বয়ং রাষ্ট্রপতিকে অপমান! সনিয়ার ‘কুমন্তব্যেই’ নাক উঁচু কংগ্রেসের পর্দাফাঁস
Congress: গত পয়লা ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বাজেট অধিবেশন (Budget Session)। যদিও তাতে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)।
বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণ বিরক্তিকর বলে কটাক্ষ করেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সুর মিলিয়ে সনিয়া বলেন, "বেচারা রাষ্ট্রপতি শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন, উনি কার্যত কথাই বলতে পারছিলেন না।"

সনিয়ার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে। কংগ্রেস সাংসদের মন্তব্যে রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে জানায় রাষ্ট্রপতি ভবন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কৃষক ও প্রান্তিক শ্রেণীর প্রতিনিধি। কিন্তু তাঁর প্রতি এহেন মন্তব্য কোনওভাবেই কাম্য নয় বলে জানায় রাষ্ট্রপতি ভবন।
সনিয়ার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি তো বটেই, গোটা দেশের নারী জাতিকে সনিয়া অপমান করেছেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, "কংগ্রেসের শাহী পরিবার জনসমক্ষে এবার স্বয়ং রাষ্ট্রপতির অপমান করছেন।" কংগ্রেসের আদিবাসী বিরোধী অবস্থান সনিয়া আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলে কটাক্ষ করেন মোদী।
সনিয়া গান্ধীর কুমন্তব্যেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আদিবাসীদের নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের মানসিক বদ্ধমূল ধারণা। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধানের প্রতি যে অস্বস্তি প্রদর্শন করেছে কংগ্রেস, তাতে ভারতের প্রতিও তাদের অসন্তোষ ধরা পড়ে গিয়েছে। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও আদিবাসীদের অপমানের নজির রয়েছে কংগ্রেসের। আদিবাসী সংগ্রামীদের চেনে না কংগ্রেস। এমনকী তাদের জন্য কোনও জনমোহিনী প্রকল্পও তারা আনেনি।
আদিবাসীদের অধিকার নিয়েও উদাসীন থেকেছে কংগ্রেস। গত ২০২৪ সালের জুলাইতে কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপত্নী বলে উল্লেখ করেন। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেও লিঙ্গবৈষম্য টেনে আনেন কংগ্রেস নেতা। যার জেরে আরও স্পষ্ট হয়ে যায় কংগ্রেসের বর্ণবৈষম্য দৃষ্টিভঙ্গি। আদিবাসী মহিলাকে দেশের শীর্ষ পদে দেখতে চায় না কংগ্রেস।
এখন প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতি যদি তথাকথিত মর্যাদাশালী কোনও পরিবার থেকে আসতেন, তাহলে তখনও কি কংগ্রেস এভাবে সমালোচনা করত? পরিবারবাদ ও উন্নাসিকতা থেকে বের হতে পারেনি কংগ্রেস। আর তাই লুঠতরাজের রাজনীতির বদলে এক আদিবাসী মহিলাকে দেশের নেতৃত্ব দিতে দেখতে পারেন না তারা। সনিয়ার মন্তব্য সমস্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে অপমানজনক। যারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আদর্শ মেনে চলেন, কংগ্রেস তাঁদেরকেও অপমান করল। আসলে, সমাজের পরিবর্তন তারা মেনেই নিতে পারেনা।












Click it and Unblock the Notifications