সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল অসমে নতুন আইনে প্রথম নাগরিকত্ব প্রদান
দুহাজার উনিশের শেষের দিকে এবং দুহাজার কুড়ির প্রথমের দিকে সিএএ নিয়ে বিক্ষোভের জেরে তোলপাড় হয়েছিল অসম। তারপর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। এবার সেই রাজ্য থেকেই নতুন নাগরিকত্ব আইনে প্রথম নাগরিকত্ব পেলেন এক ব্যক্তি।
আইনটি পাস হওয়ার প্রায় চারবছর পরে এই বছরের মার্চে আইনের নিয়মাবলী দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সেই সময় ৫০ বছর বয়সী অসমের দুলন দাস-সহ আটজন নতুন নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আবেদন করেছিলেন।

- ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন
দুলন দাস জানিয়েছেন, বাংলাদেশে নৃশংসতার মুখে পড়ার পরে পরিবারের সঙ্গে অসমের শিলচরে পালিয়ে আসেন। বাংলাদেশে সিলেটের বাসিন্দা ছিলেন তাঁরা। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দুলন দাস জানিয়েছেন. নাগরিকত্বের শংসাপত্র সংগ্রহ করতে তাঁকে গুয়াহাটির আঞ্তলিক পাসপোর্ট অফিসে যেতে বলা হয়েছিল।
- বার্তা দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে তাঁকে নাগরিকত্বের শংসাপত্র নিয়েও বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুলন দাস। তাঁর আইনজীবী ধর্মানন্দ দাস জানিয়েছে, সিএএ-র নিয়মগুলি প্রকাশিত হওয়ার পরে গত এপ্রিলে নাগরিকত্বের জন্য় আবেদন করেছিলেন দুলন দাস। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত অসমে সিএএ-র অধীনে আটজন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন আবার তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
- কবে এসেছিলেন ভারতে
কিশোর অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন দুলন দাস। পরিবারের ওপরে একাধিক হামলার পরে ১৯৮৮ সালে অসমে আসেন। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভোট দিচ্ছেন। ১৯৭১-এর পরে ভারতে এসে নাগরিকত্ব চাওয়ার কারণে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনের অর্থাৎ এনআরসির জন্য আবেদন করেননি।
- সিএএ নিয়ে সচেতনতার অভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএএ-র নিয়মগুলি নিয়ে সঠিকভাবে অবহিত না হওয়ার কারণে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা একক সংখ্যায় রয়ে গিয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মাত্র ৫০ থেকে একশো জন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তিনি আরও বলেছেন, একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সংখ্যাটি এর থেকে বেশি হবে না। তিনি বলেছেন, সিএএ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সংখ্যাটি ২০ লক্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তা এখনও হয়নি।
- কী আছে সিএএ-তে
২০১৯-এ নাগরিকত্ব নিয়ে সংসদে নতুন আইন পাশ হয়। লসেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসা হিন্দু ছাড়াও জৈন, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। অসম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় উপজাতি এলাকাগুলিকে এর থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications