আমেরিকার স্বার্থপর খেলায় অংশগ্রহণে বিরত থাকুক ভারত, মোদীর সফরের আগে চিন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমেরিকা সফরের আগে গর্জে উঠল চিন। মোদীর সফর শুরুর মুখে চিনের প্রতিক্রিয়া, আমেরিকার স্বার্থপর খেলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকুক ভারত। চিন অভিযোগ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চাপ দিয়ে তাঁদের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে থামানোর চেষ্টা করছে।
চিনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি নরেন্দ্র মোদীর ষষ্ঠ সফর।

কিন্তু এবারটাই হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর৷ যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চিনের মোকাবিলা করতে ও চিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে হয়রানি করার প্রচেষ্টা বাড়াতে ইন্ধন জোগাচ্ছে, সেইহেতু মোদীকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানাচ্ছে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের মর্যাদায়।
এ প্রসঙ্গে চিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনা ভারতকে হতাশ করবে। ভারতের অনেক উচ্চবিত্তবানরা উদ্বিগ্ন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের বিরুদ্ধে ভারতকে একটি শিখণ্ডি হিসাবে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শত চেষ্টা করেও চিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিতে পারবে না।

আমেরিকান কোম্পানিগুলির ভারতে বিনিয়োগ বাড়ানো সত্ত্বেও চিনের সরবরাহকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনই ভারতে চিনের বাণিজ্যের পরিপূরক হতে পারে না। চিনের জায়গায় কখনই নিজেদের প্রতিস্থাপন করতে পারবে না আমরিকা।
চিনের সরকারি সংবাদ মাধ্যমে লেখা হয়েছে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও বিকাশ করতে চায়, তবে তাদের উচিত চিনকে লক্ষ্য না করে নিজেদের মধ্যে সমস্যাগুলি সমাধান করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভারতকে আশ্বাসই দেয়, কিন্তু পরিষেবা দেয় স্বল্পই।

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ভারতের উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া এবং স্বার্থপর খেলায় যোগদান না করা। চিন আগেও এ ব্যাপারে ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিল। তারা মনে করে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রচার শুধু মুখেই, কাজের বেলায় কিছু নেই।
চিন মনে করে, "ভারতের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল চিন।" মজার বিষয় হল, চিনের তরফে এই বার্তা এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তাঁর পাঁচ দিনের বেজিং সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, চিনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং এবং ওয়াং ইয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications