প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরা দুর্বল ও কম সংখ্যায় অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে, দাবি সমীক্ষার
প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরা দুর্বল ও কম সংখ্যায় অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে, দাবি সমীক্ষার
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে দুর্বল ও কম অ্যান্টিবডি শরীরের ভেতর তৈরি করলেও তা শিশুদের এই মারণ ভাইরাস থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করে।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়ত শিশুদের এই ভাইরাস থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য দায়ি। সমীক্ষায় বিশদভাবে বলা হয়েছে যে একটি দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শিশুদের দ্রুত ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে এবং তাদের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম করে। সমীক্ষা বলছে, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে কার্যকারী অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে মধ্যস্থতা করে, যার ফলে শিশুদের কম শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ও গুরুতর অসুস্থতা দেখা দেয়।'

শিশুরা পুনরায় আক্রান্ত নাও হতে পারে
অন্য একটি সমীক্ষা বলছে, শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলছে এবং তাঁর মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ‘তারা হয়ত অল্প সময়ের জন্য আক্রান্ত হচ্ছেন।' এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া আর এক বিশেষজ্ঞের মতে, দুর্বল ও কম অ্যান্টিবডি থাকার অর্থ এই নয় যে শিশুরা পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার জন্য বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশাল ও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দরকার নেই
আরিজোনা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজিস্ট দীপ্তা ভট্টাচার্য বলেন, ‘কিছু সময়ের জন্য সুরক্ষিত থাকতে আপনার বিশাল, অতিরিক্ত শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রয়োজন নেই। বরং আমি বিশেষত উদ্বিগ্ন হব যে শিশুদের অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া কিছুটা কম রয়েছে।' এই সমীক্ষায় শিশুদের অ্যান্টিবডি স্তর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে এটা বলা এখনই খুব কঠিন যে বয়সের সঙ্গে অ্যান্টিবডি কম-বেশি হওয়ার সম্পর্ক কোথায়।

চারটে বয়সের করোনা রোগীর ওপর গবেষণা
এই সমীক্ষায় চারটে বিভাগের রোগীর ওপর অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়েছে। হাসপাতালে না গিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া ১৯ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, যারা প্লাজমা দিতে সক্ষম, ১৩ জন এমন যাঁদের গুরুতর কোভিড সিন্ড্রোম রয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ১৬ জন শিশু যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং৩১ জন সিন্ড্রোমহীন করোনায় আক্রান্ত শিশু। এই শেষ বিভাগের অর্ধেক শিশুর মধ্যে কোনও উপসর্গ ছিল না ভাইরাসের। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উৎপন্ন হয়েছে। সমীক্ষা জানিয়েছে যে এই ভাইরাল সংক্রমণ নিজে থেকেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এটি অন্য কোনও ভাইরাস থেকে গবেষকরা প্রত্যাশা করতে পারে না।

আলাদা ধরনের অ্যান্টিবডি
তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। শিশুদের মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যার নাম আইজিজি, এটি ভাইরাসের মধ্যে স্পাইক প্রোটিনকে নষ্ট করে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্করা বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা অনেক ক্ষমতাশালী ও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম।












Click it and Unblock the Notifications