প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার আপের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

উত্তরপ্রদেশের আগরা, এটা, ফারুক্খাবাদ ও রাজস্থানের আজমের থেকে চার আপ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। উত্তরপ্রদেশের সমাজকর্মীকে ঘুষের অভিযোগে দল থেকে বহিস্কার করার পর থেকেই মূলত এই মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনাটি শুরু হয়েছে। চন্ডীগড় ছাড়া সেভাবে জাতীয় স্তরের প্রচার নিয়ে মাথাব্যাথা নেই দলের, এমন অভিযোগও তুলেছেন দলের একাংশ।
সমাজকর্মী মুকুল ত্রিপাঠীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল আপ। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এমনকী আপ থেকে সমর্থন তুলে দল ছেড়েছেন মুকুলবাবু। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনের তরফে কোনও রকম সহায়তা পাচ্ছি না। দলের অভ্যন্তরেই দুর্নীতি রয়েছে। তাই টিকিট ফেরত দিয়ে দিয়েছি।
হাইপ্রোফাইল নেতাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ৪ আপ নেতা নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন
মুকুলবাবু মনোনয়ন প্রত্য়াহার করায় চাপে পড়েছে আপ নেতৃত্ব। কারণ, খুরশিদ নেতৃত্বাধীন জাকির হুসেন ট্রাস্টের জন্য যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা নিয়ে মুকুলবাবুর আলেকপাত করার কথা ছিল। এছাড়াও এটার দিলীপ যাদব,আগরার রবিন্দর সিং, আজমেরের অজয় সোমানিও নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
এর ফলে টিকিট বিতরণ নিয়ে আপাতত চাপ তৈরি হচ্ছে আপ নেতৃত্বের উপর। হাতে সময় কম। এই সময় হঠাৎ করে প্রার্থীরা দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলে সেই জায়গায় নতুন প্রার্থী দেওয়া নতুন করে প্রচার শুরু করায় অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হয়। এছাড়াও আর্থিক সমস্যা তো একটা থেকেই যায়। দলীয় সূত্রের খবর, নেতৃত্ব মনে করছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো প্রার্থীদের জন্য টাকা ঢেলে ঢালাও প্রচার করা সম্ভব নয়। কারণ এটা আম জনতার দল। কেউ যদি তাতে ভাবে দল সমর্থন করছে না তাহলে তারা দল ছেড়ে যেতে পারে।
তহবিল গঠনের ক্ষেত্রেও ধাক্কা খেয়েছে আপ নেতৃত্ব। কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে দিল্লির মসনদ কব্জা করে আপের ধারণা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করতে পারবেন তারা। কিন্তু পরে তা ১০০ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়। তাতেও লাভ হয়নি। আপের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি মতো তহবিল সংগঠনে সমর্থ হয়েছে এই দল। তবে লোকসভা সভা নির্বাচনে লড়ার জন্য যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছে কেজরিওয়ালের দল।
তবে একইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে আপ নেতৃত্ব। তাদের কথায় দলের মধ্যে দুর্নীতি ধরা পড়লে কে বা কারা এর সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিকে শেষমুহূর্ত হলেও দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাতে যদি লোকসভা নির্বাচনের কোনও আসন ফাঁকা থাকে থাকবে. তবে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকে লোকসভায় প্রার্থী করা হবে না।












Click it and Unblock the Notifications